হাম সংকটে শিশু মৃত্যু বৃদ্ধি

দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ছয়জনের মধ্যে দুইজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিতভাবে হাম সংক্রমণের কারণে, যাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রাজধানী ঢাকায়। অন্যদিকে বাকি চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গজনিত জটিলতায়, যাদের মধ্যে দুইজন করে খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলের বাসিন্দা।

একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে এক হাজার একশ ছিয়াশি জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান রোগটির দ্রুত বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইশ তেষট্টিতে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে চুয়ান্ন জন শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই উচ্চ হার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান আরও বলছে, একই সময়কালে মোট বিয়াল্লিশ হাজার নয়শ ঊনআশি জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ঊনত্রিশ হাজার আটশ একত্রিশ জন শিশু। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ছাব্বিশ হাজার তিনশ আটষট্টি জন শিশু। এছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচ হাজার সাতশ ছাব্বিশ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।

নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—

সূচকসংখ্যা
গত চব্বিশ ঘণ্টায় মোট মৃত্যু৬ জন
নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু২ জন
উপসর্গজনিত মৃত্যু৪ জন
নতুন উপসর্গ শনাক্ত১,১৮৬ জন
১৫ মার্চ থেকে মোট উপসর্গ শনাক্ত৪২,৯৭৯ জন
হাসপাতালে ভর্তি রোগী২৯,৮৩১ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা২৬,৩৬৮ জন
নিশ্চিত হাম রোগী৫,৭২৬ জন
মোট মৃত্যু (উপসর্গসহ)২৬৩ জন
নিশ্চিত হামজনিত মোট মৃত্যু৫৪ জন

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা গ্রহণ করেনি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই রোগ নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের জটিলতার মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও কার্যকর না করা গেলে সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।