খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই মে ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ চামড়াশিল্পকে সুসংহত করতে এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ প্রক্রিয়া সফল করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬ সালের ৫ মে, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থায়নের প্রবাহ সচল রাখাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।
Table of Contents
বাংলাদেশ ব্যাংক তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে যে, চামড়াশিল্প দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত, যা সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP), নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও এই খাতের বিশেষ অবদান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর এই শিল্পে ব্যবহৃত মোট কাঁচামালের একটি বড় অংশই সংগৃহীত হয় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট সময়ে যদি চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভব হয়, তবে এই অমূল্য জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে।
আসন্ন কোরবানি পরবর্তী সময়ে চামড়া সংগ্রহের প্রতিটি স্তরে অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকসমূহকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
চলতি মূলধন মঞ্জুরি: ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে দ্রুততার সাথে চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ সীমা মঞ্জুর ও বিতরণ করতে হবে।
বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব: ব্যাংকগুলোকে কেবল ঋণ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে তার প্রকৃত বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া ক্রয়ের সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ঋণ সুবিধা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সার্বিক অর্থায়ন প্রবাহ: কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে আড়তদার এবং ট্যানারি মালিক পর্যন্ত সকল পর্যায়ে অর্থায়নের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থের সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নজিরবিহীন নীতিগত শিথিলতা ঘোষণা করেছে। সাধারণ নিয়মে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ নিতে হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (Compromised Amount) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে কোরবানির মৌসুমের গুরুত্ব বিবেচনায়: ১. যেসব ব্যবসায়ীর পূর্বে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানের সময় পুনঃতফসিলকৃত ঋণের বিপরীতে কম্প্রোমাইজড অর্থ আদায়ের শর্তটি সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। ২. এই বিশেষ সুবিধা আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত নতুন ঋণ গ্রহণ করে চামড়া ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
২০২৬ সালের কোরবানির মৌসুমের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে একটি সুনির্দিষ্ট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। সার্কুলারে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই ২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হতে পারবে না। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়িত ঋণ বিতরণের বিস্তারিত তথ্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে প্রেরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের ফলে চামড়া খাতের উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হবে। এটি কেবল রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেই নয়, বরং এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, সঠিক সময়ে অর্থায়নের ফলে কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং পরিবেশসম্মত উপায়ে সংরক্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে এই নির্দেশনাসমূহ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পালন করার জন্য বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য