যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওই জলপথে যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি।
তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের সাবেক কমান্ডার এবং বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অতীতে এক বক্তব্যে হরমুজ প্রণালিকে ইরানের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জলপথ দিয়ে কীভাবে জাহাজ চলাচল করবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান উপসাগর থেকে জব্দ করা ইরানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি তুসকার ২২ জন নাবিককে পাকিস্তানে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, গত মাসে জব্দ করা এই জাহাজের নাবিকদের মানবিক কারণে স্থানান্তরের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও ছয়জন ব্যক্তিকে, যাঁদের নাবিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক একটি দেশের মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠানো হয়।
জাহাজটি গত ২০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গ করার কারণে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। তবে তেহরান এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই হাজার জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এসব জাহাজে থাকা ক্রু ও নাবিকের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি।
নিচের সারণিতে পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জব্দকৃত জাহাজ | এমভি তুসকা (ইরানি পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ) |
| নাবিক স্থানান্তর | ২২ জনকে পাকিস্তানে হস্তান্তর |
| অতিরিক্ত প্রত্যাবাসন | ৬ জন (ধারণা করা হচ্ছে নাবিকদের পরিবারের সদস্য) |
| জাহাজ জব্দের তারিখ | ২০ এপ্রিল |
| আটকে থাকা জাহাজ | প্রায় ২০০০টি |
| আটকে থাকা ক্রু সংখ্যা | ২০ হাজারের বেশি |
| রিপোর্টকৃত হামলা | অন্তত ১৯টি |
| নিহত নাবিক | অন্তত ১০ জন |
| আহত নাবিক | ৮ জন |
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, পণ্যবাহী কার্গো এবং যাত্রীবাহী ক্রুজ লাইনার রয়েছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে এসব জাহাজে খাদ্য, জ্বালানি এবং সুপেয় পানির মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক চলাচল একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে।