যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইরান সেটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ। সোমবার (৪ মে) ইরানের জাস্ক দ্বীপের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছ দিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওই সময় ইরানি পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপরই যুদ্ধজাহাজটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং হামলার পর সেটি তার পূর্বনির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করে সরে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর কিছু সময় পরই ইরান থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যা জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলগত হিসেবে বিবেচিত। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার পটভূমিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও উল্লেখযোগ্য। টানা প্রায় চল্লিশ দিনের সংঘাতের পর গত আট এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে শুরু থেকেই এই যুদ্ধবিরতিকে ভঙ্গুর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করে এবং আরব সাগর থেকে একটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়। এর পরবর্তী সময়ে গত বারো এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
নিচে ঘটনার প্রধান দাবি ও পাল্টা অবস্থান সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | ইরানের দাবি | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান |
|---|---|---|
| যুদ্ধজাহাজের অবস্থান | জাস্ক দ্বীপের কাছে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর | অবস্থান ও ঘটনার সত্যতা অস্বীকার |
| ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ | যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে | এমন কোনো হামলা হয়নি |
| ঘটনার পর পরিস্থিতি | যুদ্ধজাহাজ গতিপথ পরিবর্তন করেছে | ঘটনার অস্তিত্ব নেই বলে দাবি |
| পূর্ববর্তী উত্তেজনা | সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে | অভিযোগ অস্বীকার |
ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সংঘাত, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
