বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও সৃজনশীল মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানছেন। ২০২৬ সালের ১ মে, শুক্রবার কিংস অ্যারেনায় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ফর্টিস এফসির হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলবেন জাতীয় দলের সাবেক এই সফল অধিনায়ক। ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বিদায়ে দেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
ক্যারিয়ারের মাইলফলক ও অর্জনসমূহ
২০০৫ সালে ঐতিহ্যবাহী ব্রাদার্স ইউনিয়নের হাত ধরে মামুনুল ইসলামের পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১১টি ক্লাবে তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো নিম্নরূপ:
জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব: ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়ার পর থেকে তিনি বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে মোট ৬৭টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩টি গোল করেছেন।
নেতৃত্বের অধ্যায়: ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর তিনি জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এসএ গেমস সাফল্য: ২০১০ সালে ঘরের মাঠে আয়োজিত এসএ গেমসে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের স্বর্ণপদক জয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ঘরোয়া লিগের আধিপত্য: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং দুটি ফেডারেশন কাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। এছাড়া আবাহনী লিমিটেডসহ বিভিন্ন বড় ক্লাবের হয়ে তার রয়েছে অসংখ্য ট্রফি জয়ের অভিজ্ঞতা।
অপ্রাপ্তি ও আক্ষেপের দুই দিক
সাফল্যের মুকুটে অসংখ্য পালক থাকলেও বিদায়বেলায় দুটি সুনির্দিষ্ট আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মামুনুল ইসলাম। ৩০ এপ্রিল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন:
১. সাফ শিরোপা জয়: দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ জিততে না পারা তার জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপ। দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হওয়া সত্ত্বেও এই আঞ্চলিক ট্রফিটি স্পর্শ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ২. আইএসএল ও মাঠের লড়াই: ২০১৪ সালে ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) দল অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতা (এডিকে)-তে ডাক পাওয়া ছিল বাংলাদেশি ফুটবলারদের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। সে বছর তার দল চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরো মৌসুমে একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি মামুনুল। শিরোপাজয়ী দলের সদস্য হয়েও ‘প্লেইং টাইম’ না পাওয়াকে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: মাঠ থেকে ডাগ-আউটে
খেলোয়াড় হিসেবে বুট তুলে রাখলেও ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না মামুনুল। ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তার কাছে বর্তমানে কোচিংয়ের ‘এ’ লাইসেন্স সার্টিফিকেট রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, ফুটবল ছাড়া থাকা তার জন্য দুঃসাধ্য। তাই কোচিং পেশার মাধ্যমেই তিনি দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান।
