চলমান পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরে এসেছেন তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম। পেশোয়ার জালমি দলের হয়ে এক অসাধারণ শতরান করে তিনি দলকে ফাইনালে তুলে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে যে সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি, সেই চাপ কাটিয়ে এবার ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন দারুণভাবে।
গত কয়েক মাস বাবর আজমের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান না পাওয়ায় তিনি জাতীয় দলের বাইরে চলে যান। তার ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে এবং সমালোচনার ঝড়ও বয়ে যায় ক্রিকেট মহলে। তবে ঘরোয়া লিগে ফিরে এসে তিনি যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। এই আসরে তার ব্যাটিং ছিল আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী এবং পরিণত, যা তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
পেশোয়ার জালমির হয়ে এই শতরান ছিল তার ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। ইনিংসজুড়ে তিনি ধৈর্য, কৌশল এবং সময়োপযোগী আক্রমণের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। তার এই ইনিংস শুধু দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়নি, বরং তার নিজের আত্মবিশ্বাসও বহুগুণে বাড়িয়েছে।
পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ বাবরের এই প্রত্যাবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাবর আজম এখন অনেক বেশি পরিণত ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে এসেছে। তার ব্যাটিং টেকনিক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং মানসিক দৃঢ়তাও আগের চেয়ে উন্নত মনে হচ্ছে। সরফরাজের মতে, বাবর এখন নিয়মিত রান করছেন এবং মাঠে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
তিনি আরও জানান, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাবরের এই ফর্ম প্রশংসনীয় হলেও টেস্ট ক্রিকেটে তার ভূমিকা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করা হবে। দীর্ঘ ফরম্যাটে তাকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা কোচিং স্টাফ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান টেস্ট দল। এই সিরিজের স্কোয়াডে রয়েছেন বাবর আজমও। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবারও টেস্ট ক্রিকেটের বড় মঞ্চে ফিরছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ তার জন্য ফর্ম পুনরুদ্ধার ও আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় সুযোগ হতে পারে।
পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরের আগে নিজেদের দেশে একটি প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে। এরপর তারা সরাসরি ঢাকায় পৌঁছাবে সিরিজ খেলতে। এই টেস্ট সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফরের সূচি
| কার্যক্রম | তারিখ | ভেন্যু |
|---|---|---|
| প্রস্তুতি ক্যাম্প সমাপ্ত | ১ মে | পাকিস্তান |
| বাংলাদেশে আগমন | ২ মে | ঢাকা |
| প্রথম টেস্ট শুরু | ৮ মে | মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম |
| দ্বিতীয় টেস্ট শুরু | ১৬ মে | সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম |
বাংলাদেশ সিরিজ শেষে পাকিস্তান দল আগামী মৌসুমে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলবে, যার মধ্যে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। এসব সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে বাবর আজমের সাম্প্রতিক ফর্ম পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য স্বস্তির বার্তা। কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও আবারও নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ের ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
