ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আইপিএলে পাঁচবারের শিরোপাজয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আবারও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বুধবার নিজেদের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে তারা ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষদিকে চাপে পড়ে মুম্বাই ৬ উইকেটে হেরে যায়, যখন হাতে ছিল আরও ৮ বল।
এটি চলতি আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংস স্কোর হলেও সেই বড় সংগ্রহ রক্ষা করতে না পারা তাদের বোলিং বিভাগের দুর্বলতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে দলের প্রধান পেসার জসপ্রিত বুমরাহ পুরো ম্যাচেই ছিলেন নিষ্প্রভ। তিনি ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট নিতে পারেননি, যা তার সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
চলতি মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে। ১০ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান এখন নবম স্থানে, যা দলটির ঐতিহ্য ও প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক। এছাড়া দলটি এ পর্যন্ত ২২ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করেছে, যা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও স্থায়ী কম্বিনেশনের অভাবকে স্পষ্ট করে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া বোলারদের এককভাবে দায় না দিয়ে পুরো দলের সমন্বিত ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ব্যাটিং ভালো করলেও সেটিকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব সবারই। তিনি বলেন, বড় দল হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের যে মান, তা মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে না, যা দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে না পারাই ফলাফলের ব্যবধান তৈরি করছে। তার মতে, কখনও ভাগ্যও ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে, তবে পেশাদার দল হিসেবে সেই পরিস্থিতি সামলানোই মূল চ্যালেঞ্জ।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে রান তুলে সহজেই জয় নিশ্চিত করে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মৌসুম পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ সংখ্যা | ৮ |
| জয় | ২ |
| পরাজয় | ৬ |
| অবস্থান | ১০ দলের মধ্যে ৯ম |
| সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর | ২৪৩ রান |
| জসপ্রিত বুমরাহ (উইকেট) | ২ উইকেট |
| বুমরাহ (রান খরচ) | প্রতি ম্যাচে উচ্চ রান প্রদান |
বিশ্লেষকদের মতে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান সমস্যা হচ্ছে বোলিং আক্রমণের ধারাবাহিকতা হারানো এবং ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণের অভাব। ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর করলেও তা রক্ষা করতে না পারা দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বারবার দলীয় কম্বিনেশন পরিবর্তন করাও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়ে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে।
এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামনে কঠিন পথ। প্লে-অফের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে আগামী ম্যাচগুলোতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নইলে চলতি মৌসুমেই তাদের বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হবে।
