শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়নের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেফতাহুদ্দৌলা জানান, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেদ্ধ ডিম ও পাউরুটি বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছু সময় পরই পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই সময়ে আরও ২৫ জন শিক্ষার্থী পেটব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তির অভিযোগ করে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হলে জানা যায়, তারা সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং কারও অবস্থার অবনতি হয়নি।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সরবরাহকৃত খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় খাদ্য সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলার ২৪০টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় খাবার সরবরাহ করে বেসরকারি সংস্থা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)’। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংস্থাটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, গাকের সরবরাহ করা খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত সংস্থাটির খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শঙ্করবাটি-১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই সংস্থার সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি ঘটনায় একই সরবরাহকারী সংস্থার খাবার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে খাদ্যের মান, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
