যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিহত হয়েছেন এবং একই সময়ে আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পারিবারিক ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা শিগগিরই বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ।
লিমনের পরিবার জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সময় তিনি বৃষ্টিকে নিয়ে ইতিবাচক কথা বলতেন। তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে তিনি বৃষ্টিকে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ভবিষ্যতে বিয়ের আলোচনা চলছিল। জুবায়ের আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমন বৃষ্টিকে প্রতিভাবান ও দক্ষ বলে উল্লেখ করতেন; বিশেষ করে তাঁর গানের দক্ষতা ও রান্নার পারদর্শিতার কথা বলতেন।
লিমন দুই বছর ধরে তাঁর পিএইচডি গবেষণার থিসিস নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং ভবিষ্যতে গবেষণা শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল।
প্রায় দশ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও নিখোঁজ ছিলেন। বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ নামে ২৬ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি লিমনের রুমমেট ছিলেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতার একটি ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃষ্টির সন্ধানে এখনো অনুসন্ধান চলছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে তিনি আর জীবিত নেই বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের অবহিত করেছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি পরিবারকে নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৬ এপ্রিল | লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ট্যাম্পা এলাকায় দেখা যায় |
| ১৬ এপ্রিল সকাল | লিমন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রাবাসে সর্বশেষ দেখা যান |
| ১৬ এপ্রিল সকাল | বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞান ভবনে সর্বশেষ দেখা যায় |
| ১৭ এপ্রিল | পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায় |
| তদন্ত চলাকালীন | সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় |
| পরবর্তী সময় | লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় |
| পরবর্তী সময় | বৃষ্টির বিষয়ে মৃত্যু নিশ্চিতের তথ্য পরিবার জানায় |
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, জোরপূর্বক আটক, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুর ঘটনা গোপন করা এবং মৃতদেহ অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, তাঁকে আগে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায়ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি বাসার ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ইউনিট ব্যবহার করে তাঁকে আটক করে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টি উভয়েই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে।
