ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার লক্ষ্যে মিসর ও পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের দুই কূটনীতিকের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আলোচনায় অংশ নেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। উভয় পক্ষই চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে দুই মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, এই আলোচনা অব্যাহত থাকলে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অগ্রগতি আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে এবং চলমান সংঘাত নিরসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
আলোচনায় মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল অপরিহার্য। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সংঘাত বা উত্তেজনা যেন আন্তর্জাতিক নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও দুই মন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর উভয় পক্ষ একমত হন।
নিম্নে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| আলোচ্য বিষয় | মূল বক্তব্য |
|---|---|
| ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ | দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির আশা |
| যুদ্ধবিরতি | স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা |
| আঞ্চলিক উত্তেজনা | উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাত নিরসনের পরিবেশ সৃষ্টি |
| নৌ-চলাচল | আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্ব |
| আঞ্চলিক নিরাপত্তা | বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান |
সার্বিকভাবে, মিসর ও পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সমর্থনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
