তেলবাজারে অস্থিরতা শেয়ারবাজারে পতন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বাজারে কোনো ধরনের স্থিতিশীলতা ফেরেনি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতির কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। এই দ্বৈত নীতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বন্দর অবরোধ অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। ফলে বাজারে সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়, যা সরাসরি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে থাকলেও ধীরে ধীরে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়। দিনশেষে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। প্রধান সূচকগুলো একযোগে কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণের প্রবণতা বাড়ায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বাজার বা সূচকের ধরনপরিবর্তনঅবস্থা
অপরিশোধিত তেলপ্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধিদাম বৃদ্ধি
প্রতি ব্যারেল দাম৯৮ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলারদিনশেষ মূল্য
বৃহৎ শেয়ার সূচকপ্রায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাসপতন
প্রধান শিল্প সূচকপ্রায় ২৯৩ পয়েন্ট হ্রাসপতন
প্রযুক্তি সূচকউল্লেখযোগ্য পতননিম্নমুখী প্রবণতা

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা কমানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে তেলের বাজার আরও অস্থির হতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও চাপ সৃষ্টি করবে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ তাদের আমদানি ব্যয়ের বড় অংশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন এক চাপ ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।