নান্দাইলে বাস উল্টে আহত দশ

ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কৃষিজমিতে উল্টে পড়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নান্দাইল উপজেলার মেরেঙ্গা কাওয়ারগাতি এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির অতিরিক্ত গতি, সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা সড়কের সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা অংশ দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বাসটি প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং পরে পাশের ফসলি জমিতে উল্টে গিয়ে থেমে যায়।

বাসটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে যাত্রীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অনেকেই হঠাৎ ধাক্কায় ছিটকে পড়েন এবং কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। তাদের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত বাসের ভেতর থেকে বের করা সম্ভব হয়।

পরে আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে নান্দাইল ও কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে আশঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হলেও কিছু যাত্রী এখনো চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে গুরুতর।

খবর পেয়ে নান্দাইল হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালনা এবং সড়কের দুর্বল অবকাঠামো এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন। তারা নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, চালকদের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানমেরেঙ্গা কাওয়ারগাতি, নান্দাইল
সময়বুধবার সকাল ১১টা
পরিবহনযাত্রীবাহী বাস
যাত্রী সংখ্যাপ্রায় ৩০ জন
আহতঅন্তত ১০ জন
সম্ভাব্য কারণনিয়ন্ত্রণ হারানো, অতিরিক্ত গতি বা যান্ত্রিক ত্রুটি
উদ্ধার কার্যক্রমহাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মহাসড়কে নিয়মিত প্রযুক্তিগত ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের দক্ষতা যাচাই এবং কঠোর ট্রাফিক নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক অংশ দ্রুত সংস্কার করা এবং গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।