ময়মনসিংহে হামের শিশু রোগী বৃদ্ধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর ফলে ওয়ার্ডটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬৮৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮৫ জন শিশু। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন শিশুর। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটায় চিকিৎসকরা সাময়িক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই শিশু বিভাগে হামের রোগী আসা শুরু হয়। শুরুতে মাত্র এক-দুজন করে রোগী ভর্তি হলেও মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যেখানে তিনটি পৃথক চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা গ্রহণ করেনি বা টিকাদান সম্পূর্ণ হয়নি, তাদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দাগ বা র‍্যাশ দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়সংখ্যা
মোট ভর্তি শিশু৬৮৫ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন৮৫ জন
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে৫৮৫ জন
মোট মৃত্যু১৫ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি৩৩ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র২৮ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু০ জন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত তরল খাবার সরবরাহ, জ্বর নিয়ন্ত্রণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং জটিলতা এড়াতে বিশেষ চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন যাতে কোনো রোগী চিকিৎসা সেবার বাইরে না থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের পূর্ণ টিকা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি বা র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে। পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ের কিছু উন্নতি সত্ত্বেও নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।