ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়িতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা এবং তার আট বছর বয়সী শিশুসন্তানকে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে।
নিহত নারীর নাম নাছিমা বেগম। আহত শিশুর নাম আবির হোসেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাছিমা বেগম সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মো. আল-আমীন মিয়ার দুই স্ত্রীর মধ্যে ছোট স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়ির একটি ঘরে বসবাস করতেন।
প্রতিবেশীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে খাবার খাওয়ার পর নাছিমা বেগম তাঁর ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাছিমা বেগমের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। একই সময়ে তাঁর শিশুপুত্র আবির হোসেনকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
আহত অবস্থায় শিশুটি পরবর্তীতে জানায়, হামলার সময় সে প্রাণ বাঁচাতে মৃত্যুর ভান করেছিল। এতে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভোরের দিকে সে কোনোভাবে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশুটির চিৎকার শুনে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সহায়তা নম্বরে খবর দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ভোলা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
শিশুটির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। শিশুটি হামলাকারীদের মধ্যে একজনের নাম উল্লেখ করেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানা যায়, ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে। জানা যায়, নাছিমা বেগম বাড়ি সংস্কারের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঘটনার পর সেই অর্থ ঘরে পাওয়া যায়নি।
নিচে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | নাছিমা বেগম |
| আহত | আবির হোসেন (৮ বছর) |
| স্থান | শরীফ সর্দার বাড়ি, শিবপুর ইউনিয়ন, ভোলা সদর |
| সময় | শুক্রবার দিবাগত গভীর রাত |
| ঘটনা | কুপিয়ে হত্যা ও শিশুকে গুরুতর জখম |
| প্রাথমিক পরিস্থিতি | ঘরের ভেতর জিনিসপত্র এলোমেলো, অর্থ অনুপস্থিত |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | মরদেহ উদ্ধার, শিশুর চিকিৎসা, একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ |
ভোলা সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহত শিশুর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
