চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অপূর্ব (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ির পাশেই ঝুলন্ত ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত অপূর্ব সন্দ্বীপ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা নান্টুর ছেলে। সে স্থানীয় দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অপূর্ব ছিল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের, ভদ্র ও পড়াশোনায় মনোযোগী একজন কিশোর।
Table of Contents
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে অপূর্ব বাড়ির উঠানে ইট ভাঙার কাজ চলাকালে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল। ওই সময় তার আশপাশে আগে থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা একটি ছেঁড়া বিদ্যুতের তার তার অজান্তেই স্পর্শ করে। মুহূর্তের মধ্যে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক, আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | অপূর্ব (১৪) |
| পিতা | নান্টু |
| ঠিকানা | পালপাড়া, চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন, সন্দ্বীপ পৌরসভা |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় |
| শ্রেণি | নবম শ্রেণি |
| ঘটনার সময় | ২২ এপ্রিল, বিকেল সাড়ে ৫টা |
| দুর্ঘটনার কারণ | ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট |
| চিকিৎসা | হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা |
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দুর্ঘটনাস্থলে দীর্ঘদিন ধরে ছেঁড়া বিদ্যুতের তার ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে, সময়মতো মেরামত ও ঝুঁকিপূর্ণ তার অপসারণ করা হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, সামান্য অসতর্কতার কারণে তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারাতে হলো, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তাদের অভিযোগ, অবহেলার কারণেই একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে নিভে গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
সন্দ্বীপ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন হালদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ মতামত
বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুলন্ত বা ছেঁড়া বিদ্যুতের তার দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলে তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শিশু ও কিশোররা এসব বিষয়ে অজ্ঞ থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তাদের মতে, নিয়মিত বিদ্যুৎ লাইন পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ তার দ্রুত অপসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে স্কুল ও পরিবার পর্যায়ে শিশুদের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেন।
শোকের পরিবেশ
অপূর্বর অকাল মৃত্যুতে তার বিদ্যালয়, সহপাঠী ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষকরা তাকে একজন মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করছেন। সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশা। পুরো এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—আর কত প্রাণ ঝরে গেলে এ ধরনের অবহেলা বন্ধ হবে।
