লেবাননে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে বৈরিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের দশটি দেশ। কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ এই দেশগুলো বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দ্রুত সংঘাত নিরসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশগুলো এই পরিস্থিতিকে একটি গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনরত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে শান্তিরক্ষীদের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ করা হয়, গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার তিনজন শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
জাতিসংঘের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক শান্তিরক্ষী ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে এবং আরও দুইজন হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বিস্ফোরক যন্ত্রের বিস্ফোরণে প্রাণ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২ মার্চ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট একটি সংঘাতের ধারাবাহিকতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় বারো লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
দশ দেশের যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহ মেয়াদি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানানো হয়। তবে একই সঙ্গে লেবাননকেন্দ্রিক সংঘাতকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
ইরান পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে লেবাননের সংঘাত নিরসনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। অন্যদিকে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বৈরুতকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের দুইজন বেসামরিক নাগরিক এবং তেরোজন সেনা নিহত হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দশ দেশের এই যৌথ অবস্থানকে কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করা।
নিচে দশ দেশের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| দেশসমূহ | অবস্থান |
|---|---|
| কানাডা | বৈরিতা অবসানের আহ্বান |
| যুক্তরাজ্য | মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ |
| অস্ট্রেলিয়া | শান্তিরক্ষী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি |
| জাপান | অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান |
| ব্রাজিল | মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ |
| কলম্বিয়া | যুদ্ধবিরতির আহ্বান |
| ইন্দোনেশিয়া | শান্তিরক্ষী নিহত ঘটনায় উদ্বেগ |
| জর্ডান | আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আহ্বান |
| সিয়েরা লিওন | মানবিক সহায়তা জোরদার |
| সুইজারল্যান্ড | কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে লেবানন সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো ঐকমত্য না থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
