বারবার সভাপতি পরিবর্তনে বিস্ময়হীন ফিল সিমন্স বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন, জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কারণে এখন আর কোনো ঘটনাই তাঁকে অবাক করে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বে একের পর এক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বোর্ড সভাপতির একাধিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, তবে এতে দলের প্রস্তুতি বা কোচিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে তিনি জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের মে মাসে ফিল সিমন্স বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। তবে সিমন্স দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বোর্ডে পরিবর্তন আসে এবং ফারুক আহমেদের স্থলে দায়িত্ব পান আমিনুল ইসলাম। এরপর প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তামিম ইকবাল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিল সিমন্স হাসিমুখে বলেন, জীবনে এত চড়াই–উতরাই দেখেছেন যে এখন আর কিছুই তাঁকে বিস্মিত করে না। তাঁর ভাষায়, এটি বাংলাদেশের বিষয় নয়, বরং জীবনের সাধারণ বাস্তবতা, যেখানে প্রতিদিনই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও জানান, বোর্ড সভাপতির পরিবর্তন দলের প্রস্তুতি কিংবা কোচিং স্টাফের কাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। পরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুশীলন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খেলোয়াড়দের মনোযোগ এবং পরিশ্রমেও কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময়রেখা

তারিখঘটনাদায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি
২০২৪ সালের মেফিল সিমন্স প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণফারুক আহমেদ সভাপতি
২০২৪ সালের মে (দুই সপ্তাহ পর)বোর্ড সভাপতির পরিবর্তনআমিনুল ইসলাম সভাপতি
২০২৫ সালের ৭ এপ্রিলবোর্ড কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়অ্যাডহক কমিটি গঠন
২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল পরবর্তীতেঅ্যাডহক কমিটির সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণতামিম ইকবাল

সিমন্স বলেন, কোচিং স্টাফ হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো সিরিজের প্রস্তুতি ঠিকভাবে সম্পন্ন করা। নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও সেই কাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলন করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করেছে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বোর্ডের পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নই বেশি আসায় এক পর্যায়ে ফিল সিমন্স বলেন, আলোচনা আবার ক্রিকেটে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। এরপর তিনি নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ও মাঠের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবং তৃতীয় ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামে। প্রতিটি ম্যাচ সকাল ১১টায় শুরু হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজেও মুখোমুখি হবে।