মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ ‘রিচ স্টারি’ পুনরায় হরমুজ প্রণালিতে ফিরে গেছে বলে শিপিং তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাহাজটি পারস্য উপসাগর ত্যাগের চেষ্টা করলেও বুধবার সেটি আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরে আসে।
শিপিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সময় জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করে, তবে অবরোধ পরিস্থিতির কারণে তা সফল হয়নি। এর ফলে জাহাজটি পূর্ববর্তী অবস্থানের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
গত রোববার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানানো হয়, অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কোনো জাহাজই তাদের স্থাপিত নৌ-নিয়ন্ত্রণ বলয় অতিক্রম করতে পারেনি। একই সময়ে অন্তত ছয়টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যায়।
মঙ্গলবার ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হওয়ার চেষ্টা করলে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার তাদের বাধা দেয় বলে শিপিং পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা যায়। এই সময় চীনের মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’সহ মোট আটটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল, তবে সবগুলোই ব্যর্থ হয়।
শিপিং কোম্পানি সাংহাই সুয়ানরুনের মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছিল। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের কারণে জাহাজটি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক আর্থিক ও জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরও একটি বৃহৎ তেলবাহী ট্যাংকার বুধবার হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় বিশ লাখ ব্যারেল তেল, এবং এটি খালি অবস্থায় ইরাক থেকে তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান নৌ-অবরোধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিক, তেল কোম্পানি এবং যুদ্ধঝুঁকি বিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, তখন এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে একশ ত্রিশটিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
নিচে ঘটনাটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জাহাজের নাম | রিচ স্টারি |
| মালিকানা | সাংহাই সুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি |
| বহনকৃত পণ্য | প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ব্যারেল মিথানল |
| যাত্রা স্থান | হামরিয়াহ বন্দর, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| বর্তমান অবস্থা | ব্যর্থ হয়ে হরমুজ প্রণালিতে প্রত্যাবর্তন |
| অন্যান্য জাহাজ | অ্যালিসিয়া (প্রায় বিশ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতা) |
| অবরোধ পরিস্থিতি | প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অতিক্রম করতে পারেনি |
এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে শিপিং পর্যবেক্ষণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে।
