নিউইয়র্কে অস্ত্রনীতি বিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন এলাকায় ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির নীতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শত শত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইসরাইলকে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অঞ্চলটির সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে এবং এর ফলে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন “জিউইশ ভয়েস ফর পিস” জানায়, ম্যানহাটনের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের পর পুলিশ প্রায় নব্বই জনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক সামরিক তথ্য ফাঁসকারী চেলসি ম্যানিং, অভিনেত্রী হ্যারি নেফ এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্য আলেক্সা আভিলেসও রয়েছেন। তাঁদের গ্রেফতার ঘটনাটি শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কির্স্টেন জিলিব্র্যান্ডের ম্যানহাটন কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এই রাজনৈতিক নেতারা ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল নীতিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভবনে প্রবেশে বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা বাইরে এসে প্রধান সড়কে অবস্থান নেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধের জন্য অর্থ নয়, বরং জনকল্যাণে অর্থ ব্যয়ের দাবি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং তাদের তিনটি বাসে করে আটক করে নিয়ে যায়।

নিচে গ্রেফতার হওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

নামপরিচিতিঅবস্থান
চেলসি ম্যানিংসাবেক সামরিক তথ্য ফাঁসকারীবিক্ষোভকারী
হ্যারি নেফঅভিনেত্রী ও সামাজিক কর্মীবিক্ষোভকারী
আলেক্সা আভিলেসনিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্যনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি

বিক্ষোভকারীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির নীতি শুধু সংঘাত বাড়াচ্ছে না, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভের কারণে ম্যানহাটনের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

এই ঘটনা নিউইয়র্ক শহরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে সরকারের বৈদেশিক নীতি ও অস্ত্র বাণিজ্য, অন্যদিকে নাগরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু একটি বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর নীতিগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।