মহাসড়কে নসিমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ এলাকায় একটি পেট্রল পাম্পের সামনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রমিক পরিবহন ও পণ্য বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি নসিমন যান মক্কা পেট্রল পাম্পের সামনে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মালবাহী ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় নসিমনটি সড়কের ওপর উল্টে যায় এবং ভেতরে থাকা পাঁচজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা জানান, ধাক্কার শব্দ এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শ্রমিকের নাম আরমান হোসেন শেখ, বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং মোখলেস শেখের ছেলে।

আহতদের মধ্যে আশিক নামের একজন শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি তিনজন আহত শ্রমিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের মতে তাদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ঘাতক ট্রাক ও দুর্ঘটনাকবলিত নসিমনটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকটির অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণহীন চালনা এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে পেট্রল পাম্প ও বাজারসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা নিয়মিত নজরদারি, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও সহায়তা নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এলাকাবাসীর মতে, যথাযথ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

নিচে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

নামবয়সঅবস্থাচিকিৎসা কেন্দ্র
আরমান হোসেন শেখ৩৫নিহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
আশিকঅজ্ঞাতগুরুতর আহতচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
শ্রমিক একঅজ্ঞাতআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শ্রমিক দুইঅজ্ঞাতআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শ্রমিক তিনঅজ্ঞাতআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন ও ভারী ট্রাক একই সঙ্গে চলাচল করায় নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। কার্যকর তদারকি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।