ভোলায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করার সময় আব্দুল মমিন নামের এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় সদস্যরা। স্থানীয় তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সন্দেহভাজন চলাচল রোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির গতিবিধি শনাক্ত করে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
আটক আব্দুল মমিন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনাইমুড়া জেলার যাত্রাপুর থানার অন্তর্গত বাঁশপুকুর গ্রামের বাসিন্দা বসার আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি চলতি মাসের শুরুতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং এরপর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা চালান।
উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলা ঘাঁটির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে খেয়াঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত সাত এপ্রিল দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে একটি মাদক চোরাচালান চক্রের সহায়তায় তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশের পর তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন এবং সুযোগ বুঝে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আটকের পর প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আব্দুল মমিনকে ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মাদক পাচার, মানবপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সঙ্গে এ ধরনের অনুপ্রবেশের যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা সবসময় থাকে।
উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনী আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। সন্দেহভাজন চলাচল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময় ও তারিখ | ঘটনা | স্থান |
|---|---|---|
| সাত এপ্রিল | অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ | বিরামপুর সীমান্ত, দিনাজপুর |
| এগারো এপ্রিল দুপুর | গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান শনাক্ত | ভোলা সদর |
| এগারো এপ্রিল বিকেল সাড়ে চারটা | অভিযান পরিচালনা করে আটক | খেয়াঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, ভোলা সদর |
| এগারো এপ্রিল সন্ধ্যা | থানায় হস্তান্তর ও মামলা প্রক্রিয়া শুরু | ভোলা সদর থানা |
| বারো এপ্রিল (প্রস্তাবিত) | আদালতে সোপর্দ | সংশ্লিষ্ট আদালত |
