জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

শিরীন শারমিনের জামিন মঞ্জুর

রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। অসুস্থতার বিষয় এবং নির্ধারিত অর্থের মুচলেকা বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়নি। তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে কারাগারে রাখার পক্ষে যুক্তি দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে জামিনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। আদালত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকার বিনিময়ে তাকে জামিন প্রদান করেন।

আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যদি অন্য কোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকে, তবে এই আদেশের ভিত্তিতে তার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা থাকবে না।

এর আগে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন ৭ এপ্রিল লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সে সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় চলমান একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিমের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই হামলায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, আশরাফুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি লাগে। বিশেষ করে মাথা, মুখ, হাত এবং বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদীর অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। তারা বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল।

নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো—

তারিখঘটনা
১৮ জুলাই ২০২৪আজিমপুর এলাকায় মিছিলে হামলার অভিযোগ
১৭ জুলাই ২০২৫লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের
৬ এপ্রিল ২০২৬ধানমণ্ডি থেকে আটক
৭ এপ্রিল ২০২৬মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ
১২ এপ্রিল ২০২৬আদালতে জামিন মঞ্জুর

আদালতের এই রায়ের পর রাজনৈতিক ও আইনগত অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিল সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News