ভাঙ্গায় প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ, আসামি পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৭) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাতে কিশোরীর মা বাদী হয়ে পাশের যুবক লালচান শেখ (৩৫) কে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। লালচান শেখ ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তের ব্যবহৃত লুঙ্গি, জামা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা বলেন, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতের দিকে স্বামীসহ তারা পাশের চাড়ালদিয়া গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে গাজীর গান শুনতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাত ৩টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় দেখা যায় মেয়ের ঘরের দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে দেখলে লালচান শেখ ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, “আমরা দুজন মিলে তাকে ধাওয়া করলে সে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়ের কাছে গিয়ে শুনি, সে আমাকে ধর্ষণ করেছে।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “রোববার দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে কিশোরী ও তার মা-বাবাকে থানায় আনা হয়। রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

পুলিশের পদক্ষেপ

  • ঘটনাস্থল তল্লাশি করা হচ্ছে।
  • আসামি লালচান শেখের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
  • ভুক্তভোগী কিশোরীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে।
  • উদ্ধারকৃত লুঙ্গি, জামা ও মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
ভুক্তভোগী১৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোরী
আসামিলালচান শেখ, ৩৫ বছর, জান্দি গ্রাম, তুজারপুর ইউনিয়ন
মামলা দায়ের তারিখ৫ এপ্রিল ২০২৬
আইনের ধারানারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
উদ্ধারকৃত সামগ্রীলুঙ্গি, জামা, মোবাইল ফোন
মেডিক্যাল পরীক্ষাফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
গ্রেপ্তারের অবস্থাপলাতক, অভিযান চলছে

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত ন্যায়বিচার হবে এবং প্রতিবন্ধী কিশোরীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানাচ্ছেন, আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিবন্ধী ও নারী শিশুদের নিরাপত্তা সুরক্ষার গুরুত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।

এই মামলা দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, এবং সমাজে অপকর্ম প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।