বিশ্বজুড়ে বীমা খাতে আয়ের বৈষম্য ক্রমবর্ধমান। ফ্রন্টলাইন বিক্রয়কর্মীদের তুলনায় শীর্ষ নির্বাহীরা বহু গুণ বেশি বেতন ও সুবিধা পান। অঞ্চল, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবধান আরও বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিক্রয়কর্মীরা পারফরম্যান্স-নির্ভর আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে নির্বাহীরা স্থিতিশীল ও উচ্চ আয়ের সুবিধা ভোগ করছেন।
উত্তর আমেরিকায় বীমা বিক্রয় এজেন্টদের বেতন সাধারণত মাঝারি হলেও কমিশন ও বোনাসের ওপর নির্ভর করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) অনুযায়ী, দেশটিতে বীমা বিক্রয় এজেন্টদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৬০,০০০ মার্কিন ডলার। দক্ষ এজেন্টরা কমিশনসহ বছরে ৯০,০০০ ডলারের বেশি উপার্জন করতে পারেন। কানাডাতেও একই ধরনের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বেতন কাঠামো বিদ্যমান।
শীর্ষ নির্বাহীদের আয় তুলনামূলকভাবে বহুগুণ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বীমা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মোট ক্ষতিপূরণ বছরে কয়েক কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই প্যাকেজে বেসিক বেতন, পারফরম্যান্স বোনাস, শেয়ার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ইউরোপে বেতন দেশভেদে ভিন্ন। জার্মানিতে বীমা বিক্রয় এজেন্টদের গড় বার্ষিক আয় ৫০,০০০–৬০,০০০ ইউরো। যুক্তরাজ্যে বেসিক বেতন প্রায় ৩০,০০০ পাউন্ড হলেও কমিশনের মাধ্যমে মোট আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালে ইউরোপের বীমা খাতে বেতন বাজেট গড়ে ৩–৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শ্রমবাজারের পরিবর্তন ও ব্যয়চাপের প্রতিফলন।
এশিয়ায় বেতন তুলনামূলকভাবে কম, তবে দেশভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। জাপানে বিক্রয় এজেন্টরা গড়ে ৬–৭ মিলিয়ন ইয়েন আয় করেন। চীনে এন্ট্রি-লেভেলের এজেন্টদের আয় ২০০,০০০ ইউয়ানের নিচে, ভারতে ১–৪ লাখ রূপির মধ্যে। অভিজ্ঞ এজেন্টরা কমিশন ও ক্লায়েন্ট পোর্টফোলিওর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করতে সক্ষম।
বিশ্বব্যাপী বীমা খাতের এজেন্ট বনাম নির্বাহীদের বেতন তুলনা নিম্নরূপ:
| অঞ্চল | এজেন্টের গড় বার্ষিক আয় | শীর্ষ নির্বাহীর গড় ক্ষতিপূরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | ৬০,০০০–৯০,০০০ ডলার | ১–২০ মিলিয়ন ডলার | কমিশনভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট |
| কানাডা | ৫৫,০০০–৮৫,০০০ ডলার | ১–১৫ মিলিয়ন ডলার | পারফরম্যান্স প্রণোদনা মূল |
| জার্মানি | ৫০,০০০–৬০,০০০ ইউরো | ২–১০ মিলিয়ন ইউরো | কমিশন ও বোনাস যুক্ত |
| যুক্তরাজ্য | ৩০,০০০–৬০,০০০ পাউন্ড | ১–৮ মিলিয়ন পাউন্ড | বেসিক বেতন কম, কমিশন বেশি |
| জাপান | ৬–৭ মিলিয়ন ইয়েন | ৫০–২০০ মিলিয়ন ইয়েন | অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব বেশি মূল |
| চীন | ২০০,০০০ ইউয়ানের নিচে | ৩০–১২০ মিলিয়ন ইউয়ান | উদীয়মান বাজারে বৈষম্য স্পষ্ট |
| ভারত | ১–৪ লাখ রুপি | ৫০–৮০ মিলিয়ন রুপি | কমিশনভিত্তিক প্রণোদনা প্রধান |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত বাস্তবতা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা আরও দৃঢ়ভাবে দেখা যাচ্ছে। বিক্রয়কর্মীরা অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে নির্বাহীরা উচ্চ বেতন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা উপভোগ করছেন। বীমা খাতে এই পার্থক্য নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা প্রয়োজন, যাতে কর্মীদের উদ্দীপনা বজায় থাকে এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
বিশ্বব্যাপী বীমা খাতের আয়ের তথ্য ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রদর্শন করে যে, বিক্রয়কর্মীদের জন্য পারফরম্যান্স-ভিত্তিক আয় এবং নির্বাহীদের উচ্চ ক্ষতিপূরণ দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের মূল।
