বাংলাদেশে পর্যটন বীমার বিস্তার ধীর, সুযোগ সীমিত

বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্পে বীমার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনও এই গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভ্রমণকারীদের ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে পর্যটন বীমা মূলত বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য সীমিতভাবে প্রযোজ্য, এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য বিকল্প খুব কম।

পর্যটন বীমা অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি চিকিৎসা, ভ্রমণ বাতিল বা স্থগিত হওয়া, বিমান বিলম্ব, হারানো লাগেজ, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। এই সুরক্ষা ভ্রমণকারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ ও মানসিক চাপ কমায়।

বিশ্বব্যাপী পর্যটন বীমার বাজার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে এর বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৬০–৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মূল চালিকা শক্তি হিসেবে রয়েছে মহামারীর পর ভ্রমণ পুনরুদ্ধার, ঝুঁকি সচেতনতার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বীমা সেবার সহজলভ্যতা। বিশ্ব পর্যটন ও ভ্রমণ পরিষদের মতে, পর্যটন বিশ্বের জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে।

বছরবৈশ্বিক পর্যটন বীমা বাজার (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)প্রত্যাশিত মূল্য (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
২০২৪২৭
২০৩০৬০–৬৫

সাধারণ পর্যটন বীমা নীতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে ভ্রমণ বাতিল বা বিঘ্নিত হওয়া, জরুরি চিকিৎসা ও দাঁতের চিকিৎসা, জরুরি স্থানান্তর এবং দেশে ফিরিয়ে আনা। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিমানের বিলম্ব, হারানো লাগেজ, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিছু নীতি অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বা পূর্বের চিকিৎসার শর্ত অনুযায়ী বর্ধিত সুবিধা প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আলিয়ানজ, এক্সা, এআইজি (ট্রাভেল গার্ড), জেনারালি এবং ওয়ার্ল্ড নোম্যাডসের মতো প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে।

বাংলাদেশে বীমা খাতের মোট অবদান জিডিপির ০.৫ শতাংশের কম, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কমের মধ্যে। দেশে পর্যটন বীমা মূলত বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য উপলব্ধ, অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য সীমিত। ফলে অনেক বিদেশি পর্যটক তাদের নিজ দেশ থেকে বীমা গ্রহণ করে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে।

বাংলাদেশে কক্সবাজার, সুন্দরবন এবং সিলেটের চা বাগান জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। তবুও চিকিৎসা সহায়তা, জরুরি সেবা এবং ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। পর্যটন বীমার সীমিত সেবা বিদেশি পর্যটকদের আস্থা কমাতে পারে এবং উচ্চমূল্যের পর্যটন সীমিত করতে পারে। বর্তমানে পর্যটন বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রায় ৩–৪ শতাংশ অবদান রাখে, যা প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যটন বীমা খাত উন্নয়ন করলে পর্যটকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, প্রিমিয়াম পর্যটক আকৃষ্ট হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক বীমা সংস্থা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ভিসা বা ভ্রমণ প্যাকেজের সঙ্গে বীমা সংযুক্তকরণ উদ্যোগ এই খাতের প্রসার ত্বরান্বিত করতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অপরিহার্য।

বিশ্বব্যাপী ভ্রমণকারীরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে প্রধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সময়োপযোগী সংস্কার ও কৌশলগত বিনিয়োগ করে, তবে পর্যটন বীমার অপ্রযুক্ত ক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য সুযোগ উদ্ভাবন সম্ভব।