ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সরকারি ছুটির পর আজ রাজধানী ঢাকায় স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ ফিরে এসেছে। গত এক সপ্তাহ শহরের সড়কগুলো শান্ত, ফাঁকা ও জনশূন্য ছিল। তবে আজ সকাল থেকে অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নতুন করে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। যানবাহনের সারি, থেমে থেমে যানজট এবং মানুষের আনাগোনা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে শহরের বিভিন্ন অংশে এই চিত্র প্রতিস্বরূপ হয়েছে। মহাখালী, গুলশান, আগারগাঁও, কল্যাণপুর এবং উত্তর বাড্ডা অঞ্চলগুলোতে যানবাহন ও মানুষের ঘনত্ব চোখে পড়ার মতো। দোকানপাটও ঈদের আগে দিনের তুলনায় ব্যাপকভাবে খোলা দেখা গেছে।
ঈদের ছুটি এবং শহরের পরিবর্তন
পবিত্র ঈদুল ফিতরের জন্য সরকারি ছুটি শুরু হয় গত মঙ্গলবার থেকে, যা মোট সাত দিন চলেছে। এই সময়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রায় শুন্য ছিল। ঈদের পর দুই দিন অফিস খোলার পরও সড়কে মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তবে আজ থেকে সকল প্রতিষ্ঠান খোলার ফলে ঢাকার চিরচেনা কর্মজীবী রূপ ফিরে এসেছে।
স্থানীয় অভিজ্ঞতা
মহাখালীতে রাইড শেয়ারিং চালক মনসুর আলী বলেন, “ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে আমি যাত্রা শুরু করেছি, তবে যাত্রীর সংখ্যা খুব কম ছিল। আজ সকাল থেকে মানুষের আনাগোনা এবং যানজট চোখে পড়ছে। এক সপ্তাহের ফাঁকফোকর কাটিয়ে আজ শহর স্বাভাবিক রূপে ফিরে এসেছে।”
সাভার থেকে ঢাকায় আসা বৈশাখী বাসের চালক হাবিবুর মিয়া জানান, “আজ সকাল থেকে আমাদের প্রতিটি স্টপেজে যাত্রী ছিল। অফিস ও আদালত খোলার কারণে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সিগন্যালগুলোতে যানজট আগের মতোই দেখা যাচ্ছে।”
একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সুজন আহমেদ বলেন, “ঈদের সময় শহর শূন্য থাকায় অফিসে যাতায়াত সহজ ছিল। আজ থেকে ঢাকার সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি এবং যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে শহর স্বাভাবিক রূপে ফিরে এসেছে।”
ঢাকার সকাল পরিস্থিতি
নিচের টেবিলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সকাল অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ
| এলাকা | যানজট | মানুষের আনাগোনা | দোকানপাট খোলা |
|---|---|---|---|
| মহাখালী | ঘন | বেশী | ৯০% খোলা |
| গুলশান | মাঝারি | মাঝারি | ৮৫% খোলা |
| আগারগাঁও | মাঝারি | বেশী | ৮০% খোলা |
| কল্যাণপুর | ঘন | বেশী | ৯০% খোলা |
| উত্তর বাড্ডা | মাঝারি | বেশী | ৮০% খোলা |
সার্বিকভাবে, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর আজ থেকে ঢাকার সড়ক ও জনজীবন তার স্বাভাবিক কর্মচঞ্চল ও ব্যস্ত রূপে ফিরে এসেছে। অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাজার খোলার ফলে শহরে মানুষের উপস্থিতি, যানজট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আগের মতোই প্রাণবন্ত।
