রাজশাহীতে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন নেই

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম সংক্রমিত শিশুদের যথাযথ আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় এই রোগীদের অসুস্থ অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এতে অন্য শিশুদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে চলতি মাসের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামের লক্ষণ দেখিয়ে ৮৪ জন শিশুকে আইসিইউতে স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আইসিইউতে নেওয়ার পরও নয়জন শিশু মারা গেছেন। সর্বশেষ চার শিশুর জন্য আইসিইউ সুপারিশ করা হলেও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশুর নামবয়সএলাকাআইসিইউ সুপারিশবর্তমান অবস্থান
জান্নাতুল মাওয়া৮ মাসদুর্গাপুরসুপারিশকৃতসাধারণ ওয়ার্ডে অন্য শিশুদের সঙ্গে
হুমায়রা বেগম৭ মাসচাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরসুপারিশকৃতমৃত
ফারহানা বেগম৯ মাসশ্রীরামপুরসুপারিশকৃতমৃত
হিয়া বেগম৭ মাসকুষ্টিয়া সদরসুপারিশকৃতসাধারণ ওয়ার্ডে অন্য শিশুদের সঙ্গে

আইসিইউতে শিশুদের জন্য মোট ১২টি শয্যা রয়েছে। এটি হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থা; সরকারিভাবে কোনো সংযোজন করা হয়নি।

হাম সংক্রমণের প্রকৃতি ও ঝুঁকি

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে যায়। এর জটিলতায় শিশুরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মাথার প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি ১০ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত করেছে। আরও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলমান।

বেসরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি

রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গত বুধবার ভর্তি হওয়া ২৮ শিশুর মধ্যে ২০ জনের হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের পরিচালক জানান, পরীক্ষা না হওয়ার কারণে শিশুরা এক জায়গায় রাখা হয়েছে।

প্রশাসনিক দিক

রাজশাহী সিভিল সার্জন এফ আই এম রাজিউল করিম বলেন, “জেলার সব হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হামের রোগী আলাদা রাখা এবং রিপোর্ট করা। তবে বাস্তবে আইসোলেশনের অভাব ও অতিরিক্ত রোগীর কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।”

শাহিদা ইয়াসমিন, শিশু বিভাগের প্রধান, বলেন, “দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে, তবে অক্সিজেন সরবরাহ সীমিত। ঈদের আগে ২০০ শয্যার জন্য ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ডে আলাদা রাখার প্রয়োজন পড়ছে।”

পরিস্থিতি ও সতর্কতা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে আইসোলেশন শয্যা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া জরুরি।

অধিকাংশ শিশু সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে থাকার কারণে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই হাম রোগীর জন্য পৃথক আইসোলেশন এবং পর্যাপ্ত আইসিইউ ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রয়োজন।