আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিমান ও রকেট হামলার পরও ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের ব্যয়বহুলতা বিবেচনা করে দ্রুত সমাপ্তি ঘটানোর চিন্তায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলার সময় তারা কোনো বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা রাখেনি। প্রত্যাশা ছিল, হামলার পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহ শুরু করবে, কিন্তু এমন কোনো শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।
ইসরায়েলের বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দারা মনে করছেন, অভিযান কতটা সফল হয়েছে তা নির্ভর করছে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যতের ওপর। গত বছরের জুনে সংঘাতের পর এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম পাহাড়ের নিচে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সূত্রদের মতে, ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব। যদি এটি ইরানের ভিতরেই থাকে, তবে দেশটি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম হলো বর্তমান যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও অভিযানের ফলাফল নির্ধারণ করবে।”
তাঁর মতে, ইসরায়েলের সামনে দুটি বিকল্প পথ আছে:
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে নিয়ে যাওয়া।
এমন সরকার প্রতিষ্ঠা করা যা ইউরেনিয়ামের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।
ইরানের কট্টরপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার মূল নিশ্চয়তা। যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, এই ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।
সংখ্যাগতভাবে বিষয়টি বোঝাতে একটি সংক্ষিপ্ত টেবিল:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ইউরেনিয়ামের পরিমাণ | ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম |
| সম্ভাব্য পারমাণবিক ওয়ারহেড | ১০+ |
| সংরক্ষণের স্থান | পাহাড়ের নিচে, ইরান |
| বর্তমান হুমকি | দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা |
| ইসরায়েলের লক্ষ্য | ইউরেনিয়াম নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ বা সরকারের পরিবর্তন |
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি বেড়ে যেতে পারে। তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির মনোভাব এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে পারেন। চলমান সংঘাত কিছুটা বিলম্ব ঘটাতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে হুমকি তীব্র হবে।
ইসরায়েলের সমর্থকরা আশা করছেন, শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রয়োজনে সংঘাত লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সম্প্রসারণ করা হলেও তারা প্রস্তুত।
সাবেক সামরিক গোয়েন্দা জোয়াব রোসেনবার্গ মন্তব্য করেন, “ইরানের হাতে ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম থাকলে যুদ্ধ শেষের পর আমাদের জয় ‘পিরিক ভিক্টরি’ হবে — একটি জয় যা শেষ পর্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
