দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের আলোচিত নায়িকা রাশমিকা মান্দানার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আনন্দময় মুহূর্তটি হঠাৎই তিক্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ও পরিবারের সংলাপের একটি অডিও ক্লিপ, যা রাশমিকার তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অডিওটি মূলত রাশমিকার মা সুমন মান্দানার কথা ধারণ করেছে, যেখানে অভিনেত্রীর প্রাক্তন প্রেমিক রক্ষিত শেট্টিকে কেন্দ্র করে কিছু কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। অডিওটি যদিও প্রায় ৮ বছর আগের, ২০১৬ সালে ‘কিরিক পার্টি’ সিনেমার সেট থেকে নেওয়া, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ভাইরাল হয়ে রাশমিকার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করেছে।
রাশমিকা বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছে, “এই ধরনের ঘটনা আর সহ্য করা হবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অডিও ছড়াচ্ছেন বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এতদিন চুপ ছিলাম, নিজের কাজ করে গেছি এবং সব সময় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছি। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ সহ্য করা যায় না।”
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশমিকা ও রক্ষিত শেট্টি দক্ষিণী সিনেমার জগতে একসময় ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের সম্পর্কের প্রধান সময়সূচি নিম্নরূপ:
| ঘটনা | সাল | বিবরণ |
|---|---|---|
| ‘কিরিক পার্টি’ সিনেমার সেটে প্রেমের সূচনা | ২০১৬ | রাশমিকা ও রক্ষিতের সম্পর্ক শুরু হয় |
| জাঁকজমকপূর্ণ বাগদান | ২০১৭ | দক্ষিণী সিনেমার আলোচিত জুটি |
| বিচ্ছেদ | ২০১৮ | এক বছরের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যায় |
অডিওতে রাশমিকার মা শোনা গেছে বলছেন, “ভালোই হয়েছে ওদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।” যদিও এটি পুরোনো ঘটনা, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি পুনরায় ভাইরাল হওয়ার কারণে নেটিজেনদের মধ্যে নানা মতামতের উদ্রেক হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, রাশমিকা-বিজয় দেবরকোন্ডার বিয়ের ঠিক পরেই অডিওটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বলে মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখযোগ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডার নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করেন। তার পর থেকে সামাজিক মাধ্যম, গায়ে হলুদ ও সংগীত অনুষ্ঠানসহ বিয়ের নানা মুহূর্তে ভক্তদের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণী সিনেমা ছাড়াও বলিউডেও খ্যাতি অর্জন করা এই নায়িকা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত বিষয়কে এভাবে প্রচার করা মানুষকে সম্মানহানি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাশমিকা এখন একদিকে চলচ্চিত্রের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে রক্ষা ও সম্মান বজায় রাখার জন্য সচেতন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
