কেনিয়ায় ২,২৫০ রানি পিঁপড়া আটক

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেকেআইএ)-এ নিরাপত্তা চেকের সময় এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঝাং কেকুন প্রায় ২,২৫০টি রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা করছিলেন। এই পিঁপড়াগুলো আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ চুক্তি (CITES) অনুযায়ী সুরক্ষিত এবং তাদের বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

নিরাপত্তা চেকের সময় ঝাং-এর লাগেজ তল্লাশি করা হলে, প্রচুর জীবিত পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়। প্রসিকিউটর আদালতে জানান, ঝাং টেস্ট টিউব এবং টিস্যু পেপারের রোল ব্যবহার করে পিঁপড়াগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন। আদালতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত পিঁপড়াগুলোর ধরণ ও পরিমাণ নিম্নরূপ:

ধরণপরিমাণপ্যাকিং পদ্ধতি
টেস্ট টিউবে প্যাক১,৯৪৮টিবিশেষায়িত টিউব
টিস্যু পেপার রোলে লুকানো৩০০টিটিস্যু পেপার রোল

প্রসিকিউটর অ্যালেন মুলামা আদালতকে আবেদন করেন, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য। তদন্তে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যায়, ঝাং সম্ভবত গত বছর কেনিয়ায় ভেঙে দেওয়া একটি পিঁপড়া পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (KWS) এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডানকান জুমা বলেন, “তদন্ত দেশজুড়ে চলমান। বিশেষত অন্যান্য শহরে পিঁপড়া সংগ্রহের কার্যক্রম চলতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

বিগত বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ায় ‘মেসর সেফালোটস’ নামে পরিচিত গার্ডেন পিঁপড়ার চাহিদা ক্রমবর্ধমান। সংগ্রাহকরা এই পিঁপড়াগুলো প্রায়শই পোষা প্রাণী হিসেবে রাখেন।

গত মে মাসে কেনিয়ার একটি আদালত দেশ থেকে হাজার হাজার রানী পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা করা চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের প্রত্যেককে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৭,৭০০ মার্কিন ডলার জরিমানা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন দুই বেলজিয়ান, একজন ভিয়েতনামি এবং একজন কেনিয়ান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের বাস্তুতন্ত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে মাটির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পিঁপড়াগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার পোষা প্রাণীর বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।

ঝাং-এর মাধ্যমে যে চক্রের খোঁজ মিলেছে, তা এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আরও গ্রেপ্তার অভিযান সম্ভাব্য বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং পিঁপড়া পাচারের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।