ভিজিএফ চাল বিতরণে বিতর্কিত স্লোগান

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ১নং চর কালকিনি ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় চালের বস্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামসহ স্লোগান লেখা থাকায় এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ৪ হাজার পরিবারের জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণের সময় স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, চালের বস্তাগুলোতে লেখা রয়েছে:

“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ”

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারি ত্রাণ বিতরণে এমন স্লোগান দেখা দেওয়ায় উপস্থিত সুবিধাভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এই স্লোগানকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত মনে করেছেন।

বিতরণ ও বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
ইউনিয়ন১নং চর কালকিনি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর
বরাদ্দকৃত পরিবার সংখ্যা৪,০০০
মাথাপিছু বরাদ্দ১০ কেজি চাল
বিতরণের তারিখ১২ মার্চ ২০২৬
বিতরণ কেন্দ্রইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়
বিতর্কের বিষয়চালের বস্তায় রাজনৈতিক স্লোগান

বিতরণকালে সরকারি তদারকি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও স্লোগান দেখে বিব্রতবোধ করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে তর্ক-উত্তর্ক শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্টরা হিমশিম খেতে বাধ্য হন।

উপজেলা খাদ্য ভাণ্ডার পরিদর্শক নিশাদ জাহান জানিয়েছেন, “গুদাম থেকে চাল সরবরাহের সময় সাধারণত পূর্বের নাম বা স্লোগানগুলো রং দিয়ে মুছে ফেলার নির্দেশনা থাকে। তবে কিছু বস্তায় পুরনো লেখা চোখে না পড়ার কারণে থেকে যেতে পারে। আমরা এর জন্য দুঃখিত।”

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামানও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “খাদ্য কর্মকর্তা ও ওসিলএসডির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্তমানে বিতরণ কেন্দ্রে থাকা বাকি বস্তাগুলোতে লেখা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে বিতর্ক আরও বৃদ্ধি না পায়। এছাড়া ভবিষ্যতে বরাদ্দকৃত ত্রাণের বস্তায় অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্লোগান এড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুঃস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে কোনও রাজনৈতিক বার্তা সংযোজন করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে সামাজিক বিভেদও সৃষ্টি করতে পারে।