টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল শেষে ভারতের সাফল্য উদযাপিত হলেও, “প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট” নির্বাচনের বিতর্ক এখনো উত্তপ্ত। ভারতীয় দলের জয়যুক্ত যাত্রার পর পুরস্কারটি পেয়েছেন ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, প্রকৃত দাবিদার হওয়া উচিত ছিল ভারতের ফাস্ট বোলার জসপ্রিত বুমরাহ।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতার পথে ভারতের সাফল্যে বুমরাহর অবদান ছিল অতুলনীয়। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন স্যামসন, যা তাঁকে পুরস্কারের যোগ্য করেছে। তবে ডি ভিলিয়ার্সের মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বুমরাহর বলিংয়ের প্রভাব আরও বেশি ছিল।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “স্যামসন ও বুমরাহের পারফরম্যান্স খুব কাছাকাছি ছিল। বুমরাহ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন, তাই সেও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের যোগ্য। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যেভাবে সে বল করেছে, সেটা তাকে আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য করে। সিদ্ধান্তটা আরও সমীচীন হতে পারত।”
বুমরাহর টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যান
| খেলোয়াড় | ম্যাচ সংখ্যা | উইকেট | ইকোনমি রেট | উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|---|
| জসপ্রিত বুমরাহ | ৮ | ১৪ | ৬.২ | সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ওভার |
বুমরাহ এই বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন, যা সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির সমান। তাঁর ইকোনমি রেট মাত্র ৬.২, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিরল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই ওভারগুলো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে—সেমিফাইনাল ও ফাইনালে—খেলেছেন, যা ভারতের জয়ের দিকে মোড় নিয়েছে।
ডি ভিলিয়ার্স আরও বলেছেন, “ভারতে ফাস্ট বোলার হিসেবে ধারাবাহিকতা দেখানো সহজ নয়। বুমরাহ কিছু ওভারে খরচ করলেও সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। সে যেন অন্য গ্রহের বোলার, চাপের মুহূর্তে অন্য গিয়ারে চলে যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সে অমূল্য সম্পদ।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বুমরাহর ধারাবাহিকতা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং ভারতের ভিন্ন ধরনের কন্ডিশনে পারফরম্যান্স তাকে প্রকৃত “টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে মত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বোলারদের অবদান আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
এই বিতর্ক প্রমাণ করছে, শুধু ব্যাটিং নয়, ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে খেলোয়াড়ের প্রভাবক এবং মানকও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।
