ট্রাম্পের বক্তব্য: যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, ইরানে আঘাত করার মতো কিছু বাকি নেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে শিগগিরই সমাধান আসবে এবং ইরানে আঘাত করার মতো মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় শেষ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধ আমি চাইলে যখনই শেষ হবে, তখনই শেষ হবে। ইরানে আঘাত করার জন্য আর কিছুই বাকি নেই।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধাগুলোকে ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কূটনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত বুধবার বলেন, “এই যুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়। যত দিন প্রয়োজন এবং যতক্ষণ না সমস্ত লক্ষ্য অর্জিত হয়, যুদ্ধ চলবে।” তিনি আরও জানান, যৌথ অভিযান চলাকালীন সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করা ইসরায়েলের অগ্রাধিকার।

যুদ্ধের প্রধান ঘটনাবলী ও অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

তারিখঘটনাঅংশগ্রহণকারী দেশলক্ষ্যমন্তব্য
২৮ ফেব্রুয়ারিযৌথ হামলা শুরুযুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধাআঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন এবং লক্ষ্য পূরণ
মার্চ ১-৫ধারাবাহিক বিমান হামলাযুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলবিভিন্ন সামরিক স্থাপনাআংশিক ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি
মার্চ ৮ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজের মন্তব্যইসরায়েললক্ষ্য অর্জন অব্যাহতযুদ্ধের সময়সীমা নির্ধারিত নয়
মার্চ ১১প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভাবনাআংশিক লক্ষ্য পূরণ, নতুন হামলার সম্ভাবনা কম

রয়টার্স এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েল অনুযায়ী, কাৎজের মন্তব্য প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ অভিযানের সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শান্তি-মুখী বক্তব্যের মধ্যেও মাঠে বাস্তব পরিস্থিতি এবং অভিযান চলাকালীন লক্ষ্য পূরণের জটিলতার কারণে যুদ্ধের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য যদি সাময়িক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে, তবে ইসরায়েলি অংশীদারের অটল মনোভাব এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের কারণে সংঘাতের পুরো চিত্র এখনও অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতি পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।