বাবরকে বাদ দেওয়া হয়নি, দাবি অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান দলের একাদশ। বিশেষ করে নিয়মিত অধিনায়ক ও দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজমের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্রীড়া মহলে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। তবে সিরিজ শুরুর প্রাক্কালে আজ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দাবি করেছেন, বাবর আজমকে দল থেকে ‘বাদ’ দেওয়া হয়নি।

তিন নতুনের অভিষেক ও তারুণ্যের জয়গান

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তান এক সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে চলেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হবে ক্রিকেট বিশ্ব, যেখানে পাকিস্তানের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানেরই একসঙ্গে অভিষেক হতে যাচ্ছে। শাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাতের উদ্বোধনী জুটির পর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে নামবেন তরুণ শামিল হোসেন।

শাহিন শাহ আফ্রিদি তরুণদের এই অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত। মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের সহজাত খেলাটা খেলতে পারবে এবং তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কেবল একটি সিরিজের কথা ভাবছে না, বরং আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতের দল গড়ে তুলছি।”

নিচে পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও বাংলাদেশ সিরিজের অভিষেক প্রত্যাশীদের তালিকা দেওয়া হলো:

খেলোয়াড়ের নামপজিশনপ্রেক্ষাপট
শাহিবজাদা ফারহানওপেনারঅভিষেক ওয়ানডে
মাজ সাদাকাতওপেনারঅভিষেক ওয়ানডে
শামিল হোসেনওয়ান ডাউন (৩ নম্বর)অভিষেক ওয়ানডে
বাবর আজমটপ অর্ডারঅভিজ্ঞ; বিশ্রামে (অধিনায়কের দাবি অনুযায়ী)
সাইম আইয়ুবওপেনারঅভিজ্ঞ; এই সিরিজে দলে নেই

বাবর আজমের অনুপস্থিতি ও আফ্রিদির ব্যাখ্যা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজে সেঞ্চুরি করার পরও বাবর আজমকে কেন দলে রাখা হলো না—এই প্রশ্নটিই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান বিতর্ক। তবে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এই বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “দেখুন, কেউই এই সিরিজ থেকে বাদ পড়েনি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প দল তৈরি করা। বাবর আজম ও সাইম আইয়ুবের মতো অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া হয়নি, বরং তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ও ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দিতে এই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”

পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৫ ও ২০২৬ সালের শুরুটা পাকিস্তান দলের জন্য অত্যন্ত সফল হলেও বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে ফরম্যাটে গত বছরটি ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারের পর আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হলেও ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে শাহিন আফ্রিদির দল।

অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ তাদের ঘরের মাঠে অত্যন্ত শক্তিশালী দল। তারা সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে তারা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। তবে আমরাও গত দুই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।”

উপসংহার

অভিজ্ঞ বাবর আজমকে ছাড়া পাকিস্তানের এই তরুণ দল মিরপুরের উইকেটে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আফ্রিদির আত্মবিশ্বাস দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বোলারদের জন্য এটি হবে তিন নতুন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরানোর এক বড় সুযোগ। মিরপুরের কন্ডিশন ও স্পিন সহায়ক উইকেটে দুই দেশের লড়াই জমজমাট হবে বলেই ক্রিকেট ভক্তরা আশা করছেন।