কুমিল্লায় শ্রমিক আন্দোলনে মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস আদায়ের দাবিতে ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড–এর শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই আন্দোলনের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও মালবাহী যান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়।

ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, শ্রমিকরা উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি সমাধান করেন।

শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা গত তিন মাস ধরে বেতন পাননি। প্রত্যেক শ্রমিকের বকেয়া প্রায় ৩০–৪০ হাজার টাকা। ঈদুল ফিতরের আগে আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পেয়ে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সিডিএম পরিবহনের চালক সামিউল হোসেন বলেন, “গত বছরও একই কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। আজও একই কারণে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে মালিকরা দ্রুত বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, “শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতন ১২ মার্চের মধ্যে পাবেন। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস ১৬ মার্চের মধ্যে প্রদান করা হবে। কিছু মহল ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল।”

বকেয়া বেতন ও বোনাসের তথ্য

মাসবকেয়া পরিমাণ (প্রতি শ্রমিক)প্রদানের তারিখ (আশ্বাস)
জানুয়ারি৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা১২ মার্চ ২০২৬
ফেব্রুয়ারি৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা১৬ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতর বোনাসনির্ধারিত হারের অনুযায়ী১৬ মার্চ ২০২৬

প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর যানজট নিরসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আরও স্থায়ী সমঝোতা হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে না এবং কর্মক্ষেত্রের শান্তি বজায় থাকবে।

এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করে যে, সময়মতো বেতন ও বোনাস প্রদান এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।