গাজীপুরে সেলসম্যানের ছিনতাই, নগদ লক্ষাধিক লুট

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে প্যারাসুট নারিকেল তেল কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশনের কাজে নিয়োজিত এক সেলসম্যান ও তার সহকর্মীরা ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় সেলিম (৩৭) নামে এক ডিস্ট্রিবিউটর ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে গুরুতর আহত হন। ছিনতাইকারীরা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম ও তার সহকর্মীরা কোম্পানির নগদ অর্থ ও সরবরাহকৃত পণ্য বিতরণের কাজ শেষ করে ফেরার পথে তিনজন দুষ্কৃতিকারী তাদের গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছিনতাই প্রতিরোধ করার সময় সেলিমের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। আহত সেলিমের সঙ্গে আরও দুই সহকর্মী—রাজন (৩২) ও এরশাদ (৪২)—সামান্য আহত হন। সেলিমের স্থায়ী ঠিকানা ফেনী জেলার লক্ষীপুর এলাকায়, আর রাজন ও এরশাদ গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার বনমালা এলাকায় বাস করেন।

স্থানীয়রা আহতদের সঙ্গে সঙ্গে তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। টঙ্গী পশ্চিম ও গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিচে ঘটনার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে টেবিলে তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
ঘটনার তারিখ ও সময়৮ মার্চ, রাত ৯টা
স্থানগাজীপুরা, গাছা থানা, গাজীপুর
ভুক্তভোগীসেলিম (৩৭), রাজন (৩২), এরশাদ (৪২)
ভুক্তভোগীর ঠিকানাসেলিম: ফেনী জেলার লক্ষীপুর, রাজন ও এরশাদ: গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব
ছিনতাইকারীর সংখ্যা৩ জন
ছিনতাইয়ের বিষয়নগদ ১,৮১,০০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন
আহতের অবস্থাসেলিম গুরুতর আহত, রাজন ও এরশাদ সামান্য আহত
চিকিৎসা কেন্দ্রতাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
পুলিশ প্রতিক্রিয়াপ্রাথমিক তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছিনতাইকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের গতিরোধ করে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে এবং আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবসায়িক নগদ পরিবহন নিরাপদ করতে আরও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এই ঘটনায় গাজীপুরে ব্যবসায়িক লেনদেন এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মিলিতভাবে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।