ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আটককৃত শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি এবং ছাত্রলীগের দুই নেতা রয়েছেন।
Table of Contents
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রাথমিক আটক
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় গত শনিবার বেলা ৩টার দিকে। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় উচ্চশব্দে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকতকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আসিফ আহমেদকে আটকের প্রতিবাদে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা একটি রিকশায় মাইক বেঁধে পুনরায় ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভাষণ বাজানোয় বাধা প্রদান করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ শিক্ষার্থীরা পাল্টা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পর শিক্ষার্থীরা ইমি ও মামুনকে রিকশাসহ ধরে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় এবং থানার ভেতরে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের দুজনকে হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান
| নাম | প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পদবি | আটকের স্থান |
| শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি | সাবেক ভিপি, শামসুন্নাহার হল সংসদ (ডাকসু) | শাহবাগ থানা প্রাঙ্গণ |
| মো. আসিফ আহমেদ সৈকত | কর্মসংস্থান সম্পাদক, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ | চানখাঁরপুল এলাকা |
| আব্দুল আল মামুন | সহ-সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ | শাহবাগ থানা প্রাঙ্গণ |
মামলার এজাহার ও আইনি জটিলতা
আজ রোববার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পুলিশের দায়ের করা মামলার এজহারে বলা হয়েছে, আসামিরা জাতীয় জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে সমবেত হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিলেন। সেই সময় শাহবাগ থানা মসজিদে তারাবিহর নামাজ চলছিল। নামাজ চলাকালে লাউড স্পিকার ব্যবহার করে ধর্মীয় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং থানা হেফাজতে থাকা আসিফ আহমেদ সৈকতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং নির্দিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে তারা এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, অন্য পক্ষটি হেফাজতে মারধর ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শাহবাগ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
