মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইরাকি কুর্দি বাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রতিরোধে নতুন কৌশল ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন সেনারা কুর্দি মিলিশিয়ার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে বৃহৎ পরিসরের হামলা চালিয়েছে। এর উত্তরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে প্রতিহামলা শুরু করেছে। কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান রাতে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কেন্দ্রগুলির একটি। তবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘রাইসিনা ডায়ালগস’ সম্মেলনে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, “এটি ইরানের অস্তিত্বের লড়াই। যেখান থেকে হামলা আসুক, সেখানে তেহরানকে জবাব দিতে বাধ্য হতে হবে।” অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, “ইরাকি কুর্দি বাহিনী যদি ইরানে প্রবেশ করে হামলা চালাতে চায়, আমি এর পক্ষে। এটি কার্যকর হতে পারে।” ট্রাম্প আরও বলেছেন, “গত সপ্তাহে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরবর্তী নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা থাকা উচিত।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ইরানের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা নয়। আমরা চাই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত রাখা।”
এদিকে লেবাননের ইরানপন্থি সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলি নাগরিকদের সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শহরগুলো খালি করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষে মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিম্নরূপ:
| দেশ/এজেন্সি | নিহতের সংখ্যা | বিশেষ উল্লেখ |
|---|---|---|
| ইরান (রেড ক্রিসেন্ট) | ১,২৩0 | স্কুলে ১৭৫ শিক্ষার্থী ও কর্মী নিহত |
| লেবানন (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) | ৭৭ | সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ |
| কাতার | ০ | আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, হতাহতের খবর নেই |
এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিকে আরও উত্তেজিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করছে, যা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করছে।
