সম্মান ফেরাতে হবে, না হলে খেলব না: বিজয়

২০২৫ সালের বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার কারণে এনামুল হক বিজয় ২০২৬ সালের বিপিএলে খেলার সুযোগ পাননি। এ ঘটনায় অন্য কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকে খেলতে দেওয়া হয়নি। তবে মূলত মনে করা হয়েছিল, ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোতে বিজয় অংশ নিতে পারবেন।

কিন্তু সম্প্রতি শেষ হওয়া অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপ এবং চলমান বিসিএল ওয়ানডে শিরোপা পর্বেও তাকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি। এর পরই ৩৩ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার সরাসরি সাংবাদিকদের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

আজ মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন বিজয় বলেন, “আমি ক্রিকেট খেলি সম্মানের জন্য, টাকার জন্য নয়। যদি আমার সম্মান ফেরত না আসে, আমি আর খেলব না। এটি আমার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, “বিজয়ের সঙ্গে পুরোপুরি ভুল হয়েছে। সন্দেহের তালিকায় থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। এখন আমাকে সব ধরনের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। বিসিবি যদি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে আমি অপরাধী নই, তখনই আমি আবার খেলতে ফিরব।”

বিজয়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ঘরোয়া পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্যে খেলার নীতি, মানসিক দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্ব দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা আমার সম্মান ফেরত দিচ্ছেন না এবং সসম্মানে জানাননি যে আমি কোনো ভুল করিনি, ততক্ষণ আমি মাঠে নামব না। আমার পক্ষ থেকে প্রমাণ চাইলে দেখান—আমি কিছু করেছি কি না। ঝুলে থাকা আর চলবে না।”

বাংলাদেশের হয়ে তিনটি সংস্করণ মিলিয়ে ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বিজয় তার সততার প্রতি জোর দেন এবং বোর্ডের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

নিচের টেবিলে বিজয়ের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক খেলার অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

খেলার ধরনঅংশগ্রহণের অবস্থামন্তব্য
বিপিএলনিষিদ্ধ২০২৫ ম্যাচ ফিক্সিং সন্দেহের কারণে
অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপঅংশগ্রহণ হয়নিবোর্ড অনুমোদন নেই
বিসিএল ওয়ানডেঅংশগ্রহণ হয়নিসম্মান ফেরত না আসায়
অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টঅনুমোদিত হওয়া উচিতবোর্ড স্পষ্ট ঘোষণা দিলে খেলতে পারবে
আন্তর্জাতিক ম্যাচখেলা হয়েছে৭৭টি ম্যাচে অংশগ্রহণ

বিজয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি শুধুমাত্র নিজের খ্যাতি ও সম্মানের জন্য খেলতে আগ্রহী, আর অন্য কোনো প্রভাব বা চাপ তার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে বোর্ড ও খেলোয়াড়ের মধ্যে সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।