মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ ও প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানি ভূখণ্ডে হামলার ঘটনার পর, তেহরান তার দ্বিতীয় দফার কঠোর প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব লক্ষ্য করে একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তেল আবিবের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
হামলার বিস্তৃতি ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তু
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই প্রতিশোধ কেবল ইসরাইলি ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেসব আরব দেশ বা উপসাগরীয় রাষ্ট্র ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে সহায়তা করেছে, তাদেরও চড়া মূল্য দিতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের আকাশসীমা এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক খতিয়ান
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে। নিচে হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও হতাহতের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রদান করা হলো:
| হামলার স্থান | সংশ্লিষ্ট দেশ | ক্ষয়ক্ষতির ধরন |
| তেল আবিব | ইসরাইল | বিকট বিস্ফোরণ ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি। |
| আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি | সংযুক্ত আরব আমিরাত | সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত; ১ জন নিহত হওয়ার খবর। |
| রিয়াদ ও আশপাশ | সৌদি আরব | বিস্ফোরণের শব্দ ও উচ্চ সতর্কবার্তা। |
| জর্ডান ও বাহরাইন | সংশ্লিষ্ট অঞ্চল | ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের চেষ্টা ও ধ্বংসাবশেষের পতন। |
তেহরানের হুঁশিয়ারি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ইরানের সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না। “শত্রু পক্ষ যতক্ষণ না তাদের আগ্রাসন বন্ধ করছে এবং চূড়ান্তভাবে পরাজিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে,”—বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এই যুদ্ধের দামামা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পরোক্ষ অংশগ্রহণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সম্পদ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এখন থেকে তাদের জন্য ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মুহূর্তে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ইরান তার এই অগ্রযাত্রা কতদূর নিয়ে যাবে, তা এখন সারা বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
