নারায়ণগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে রাতের ডাকাতি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অস্ত্রের মুখে বাসিন্দাদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। হামলার সময় প্রতিবেশী আক্তার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত আক্তার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনা ও ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত প্রায় ২টার দিকে খাগকান্দা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রায় ১০–১৫ জনের একটি ডাকাত দল সৌদি প্রবাসী আজাদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির ছোট গেট ভেঙে প্রবেশ করে এবং ঘরের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।

ঘরের লোকদের চিৎকারে প্রতিবেশী আক্তার এগিয়ে আসেন। ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং গুরুতর আহত করেন। লুট করা মালামালের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যমানের। নগদ অর্থের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

পুলিশের পদক্ষেপ

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, “ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, রাতের এই হঠাৎ হামলা ও অস্ত্রের ব্যবহার এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ডাকাতির সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
স্থানকদমতলী গ্রাম, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
ঘটনার সময়২৬ ফেব্রুয়ারি, গভীর রাত (প্রায় ২টা)
ডাকাত দলের সংখ্যা১০–১৫ জন
লুটকৃত মালামালনগদ টাকা, মোবাইল, গহনা, অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী (~১,৫০,০০০ টাকা)
আহত ব্যক্তিপ্রতিবেশী আক্তার
চিকিৎসাঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
পুলিশের পদক্ষেপঘটনাস্থলে মোতায়েন, অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্থানীয়রা এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক লোভ ও পরিকল্পিত ডাকাতির সম্ভাবনা পুলিশ তদন্ত করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের ভয়ঙ্কর এই ঘটনায় এলাকাবাসী নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সজাগ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকায় দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার সম্ভব হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিষয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে।