শিক্ষার্থীদের শাহবাগ থানায় উত্তপ্ত প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর সোমবার রাতে পুলিশের হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, “রাস্তা-ঘাটে যে কাউকে বিনা কারণে মারার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? মানুষ কি এখন মুক্তভাবে হেঁটে যেতে পারবে না? রাস্তা কি পুলিশের সম্পত্তি? ডিসি মাসুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

দাবিবিস্তারিত বিবরণ
আইনি ব্যবস্থাডিসি মাসুদ আলমসহ হামলায় অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অযাচিত পুলিশিং বন্ধক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের অযাচিত পুলিশি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
নিরাপত্তা ও মানবাধিকারবিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, পুলিশের এই ধরনের আচরণ তাদের স্বাধীন চলাফেরার অধিকার হরণ করছে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। তারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

ঢাবির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতের হামলার সময় নাইমুদ্দীন কোনো অপরাধ করেননি, তবু পুলিশ তার ওপর অযাচিত সহিংসতা চালিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

শিক্ষার্থীরা পুলিশকে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ, জনসাধারণের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়টি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শাহবাগ থানার ঘেরাও কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ও সংগঠিত প্রতিবাদের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি পুনর্বার আহ্বান জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো: পুলিশ যেন দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে, আইনি ব্যবস্থা অবিলম্বে নেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

এই আন্দোলন ঢাবি শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সুসংগঠিত মনোভাবের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করছে।