‘পাঁচবার বানর’ মন্তব্যের অভিযোগে উত্তাল চ্যাম্পিয়নস লিগ

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বে লিসবনে অনুষ্ঠিত বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত শুধু ফলাফলের জন্য নয়, বরং এক তীব্র বর্ণবাদ বিতর্কের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ১–০ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচের ৫০ মিনিটে করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল উদ্‌যাপন ঘিরেই সৃষ্টি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি।

গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে নেচে উদ্‌যাপন করছিলেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এ সময় বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, প্রেস্তিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের দিকে কিছু বলছেন। সঙ্গে সঙ্গে ভিনিসিয়ুস রেফারির কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, তাঁকে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।

ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের উয়েফার বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল সক্রিয় করেন। ম্যাচ প্রায় ১০ মিনিটের বেশি সময় বন্ধ থাকে। দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। রিয়ালের মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি পরে জানান, ভিনিসিয়ুস তাঁদের বলেছেন যে তাঁকে “বানর” বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পেও দাবি করেন, প্রেস্তিয়ান্নি একাধিকবার এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।

তবে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রেস্তিয়ান্নি। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তিনি কখনোই বর্ণবাদী মন্তব্য করেননি এবং ভিনিসিয়ুস ভুল বুঝেছেন। বেনফিকার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো বারেইরোও দাবি করেন, বিষয়টি ছিল ম্যাচের উত্তেজনার অংশ, বর্ণবাদী কিছু নয়।

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্ণবাদের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা উচিত। তিনি বলেন, “২০২৬ সালে এসে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ভিনিসিয়ুস চাইলে আমরা দল হিসেবে মাঠ ছেড়ে দিতাম।” ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ড একে খেলাধুলা ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। ফেদেরিকো ভালভের্দে আক্ষেপ করে বলেন, এত ক্যামেরা থাকার পরও অভিযোগের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া হতাশাজনক।

বেনফিকার কোচ জোসে মরিনিও বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, দুই খেলোয়াড় তাঁর কাছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ক্লাবের ইতিহাসের কিংবদন্তি ইউসেবিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বেনফিকাকে বর্ণবাদী ক্লাব হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

ঘটনার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশে দাঁড়ায়। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্ণবাদ একটি অপরাধ এবং ফুটবলসহ সমাজের কোথাও এর স্থান নেই।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
প্রতিযোগিতাচ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফ (প্রথম লেগ)
ভেন্যুলিসবন
ফলাফলবেনফিকা ০–১ রিয়াল মাদ্রিদ
গোলদাতাভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৫০’)
বিতর্কবর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ

২৫ ফেব্রুয়ারি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন। আবারও প্রমাণ হলো—ফুটবল মাঠে কেবল প্রতিভা নয়, মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষাও চলে সমানতালে।