টেইলর সুইফটের নামে বেডিং সামগ্রী বিক্রি ও মামলা

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পপ আইকন টেইলর সুইফটের নাম ও ব্র্যান্ড ইমেজ ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে একটি বেডিং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাথে হোম’-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে যে, তারা গায়িকার অনুমতি ছাড়াই তাঁর নামের সদৃশ লোগো ও ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে বিছানার চাদর, বালিশ ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্য বাজারজাত করার চেষ্টা করছে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘ক্যাথে হোম’ তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিং হিসেবে ‘সুইফট হোম’ (Swift Home) নামটি ব্যবহারের জন্য আবেদন করে। টেইলর সুইফটের আইনি প্রতিনিধি দল ‘টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট এলএলসি’ লক্ষ্য করে যে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল গায়িকার পদবিই ব্যবহার করছে না, বরং লোগোটির নকশা ও ফন্ট এমনভাবে তৈরি করেছে যা সুইফটের ব্যক্তিগত স্বাক্ষরের হুবহু অনুকরণ বলে মনে হয়।

এরই প্রেক্ষিতে গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে (USPTO) ক্যাথে হোমের ট্রেডমার্ক বাতিলের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আইনি নথিতে দাবি করা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুকৌশলে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সুইফটের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অন্যায্য ব্যবসায়িক সুবিধা লাভের চেষ্টা করছে।

টেইলর সুইফটের ট্রেডমার্ক সাম্রাজ্য

টেইলর সুইফট শুধু একজন সংগীতশিল্পীই নন, তিনি একজন অত্যন্ত সচেতন ব্যবসায়ীও বটে। নিজের নাম ও কাজকে সুরক্ষায় তিনি কতটা কঠোর, তা তাঁর নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। গায়িকার সুরক্ষিত স্বত্বগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বিভাগসুরক্ষিত আইটেমের বিবরণট্রেডমার্কের সংখ্যা (আনুমানিক)
ব্যক্তিগত পরিচয়পূর্ণ নাম, আদ্যক্ষর (T.S.), এবং স্বাক্ষর১০০+
সৃষ্টিশীল কাজঅ্যালবামের নাম (যেমন- ১৯৫৯, মিডনাইটস)৫০+
লিরিক্স ও সুরগানের জনপ্রিয় কিছু লাইন ও হুক লাইন৬০+
পণ্য সামগ্রীপোশাক, গহনা এবং গৃহস্থালি সাজসজ্জা৯০+
মোটবিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সুরক্ষা৩০০-এর বেশি

ব্র্যান্ড ইমেজ ও আর্থিক প্রভাব

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের সংগীতশিল্পীদের তালিকায় উপরের সারিতে রয়েছেন টেইলর সুইফট। তাঁর সাম্প্রতিক ‘দ্য ইরাস ট্যুর’ (The Eras Tour) সংগীত ইতিহাসের অন্যতম সফল সফর হিসেবে স্বীকৃত, যা থেকে অর্জিত আয়ের পর তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তাঁর এই বিপুল খ্যাতির কারণে ভক্তরা ‘সুইফট’ লেখা যেকোনো পণ্যের প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ব্যবহার করে, তবে সেটি কেবল কপিরাইট আইনই লঙ্ঘন করে না, বরং গায়িকার কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্র্যান্ড মূল্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘সুইফট হোম’ নামটি সাধারণ গ্রাহকদের মনে এই বিভ্রম তৈরি করতে পারে যে পণ্যগুলোর সাথে গায়িকার কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর আগেও সুইফট তাঁর গানের কথা যেমন ‘শেক ইট অফ’ বা ‘দিস সিক বিট’ ব্যবহারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা এনেছিলেন। ক্যাথে হোমের বিরুদ্ধে এই মামলার ফলে এখন প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের ট্রেডমার্ক ব্যবহারের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে, নতুবা বিপুল জরিমানার পাশাপাশি বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ আসতে পারে।

টেইলর সুইফট নিজের ইমেজ ও নাম রক্ষায় বরাবরই আপসহীন। এই আইনি পদক্ষেপ মূলত সেই সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কঠোর বার্তা যারা তারকাদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে অসাধু উপায়ে ব্যবসা করতে চায়।