খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৯ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সরাসরি মুখ না খুললেও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।
Table of Contents
শনিবার রাতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে পরবর্তীতে একটি ক্ষুদে বার্তায় তিনি জানান যে, তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, “৯ ও ১০ তারিখে অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা দেশ ছেড়েছেন কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের কোনো উত্তর তার পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে তার এই আকস্মিক প্রস্থানকে অনেকেই অর্থবহ বলে মনে করছেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দিয়েছিলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তার নিয়োগ ও পদমর্যাদার বিবর্তন নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | পদের নাম/মর্যাদা | দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষেত্র |
| নভেম্বর ২০২৪ | আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা প্রণয়ন |
| ৫ মার্চ ২০২৫ | বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) | ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় |
| ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বিদায় গ্রহণ | মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ |
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দায়িত্ব পালনকাল একেবারে নিষ্কণ্টক ছিল না। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি বড় প্রকল্পে যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধান চলমান থাকাবস্থায় তিনি তড়িঘড়ি করে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই বিতর্ক তার ভাবমূর্তিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। এমন একটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন বিশেষ সহকারীর দেশত্যাগের খবরটি প্রশাসনে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিতর্ক এড়াতেই তিনি আগেভাগে দেশত্যাগ করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার দেশত্যাগ বা নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
মন্তব্য