শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানেই ধরা পড়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মজিবর মাদবর এবং তার স্ত্রী। অভিযানটি শুরু হয় রাত ৯টা থেকে এবং মধ্যরাত আড়াইটা পর্যন্ত চলে। এই সময়ে তাদের বসত বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানো হয়।
যৌথ বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্ত্র রাখার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ নগদ অর্থ সঞ্চয় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের যৌথ তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিস্তারিত নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| ধরণ | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| পিস্তল কভার | ১টি |
| পিস্তলের সিলিং | ১টি |
| দেশীয় চাকু | ২৮টি |
| হকিস্টিক | ১টি |
| অস্ত্র পরিষ্কার ওয়েল ব্রাশ | ১টি |
| ক্লিনিং রড | ১টি |
| নগদ অর্থ | ১,২৫,০০০ টাকা |
| মোবাইল ফোন (অ্যান্ড্রয়েড) | ২টি |
| মোবাইল ফোন (বাটন) | ২টি |
| অস্ত্রের সিলিং | ১টি |
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মজিবর মাদবর এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য অস্ত্র রাখতেন। অভিযান ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযানের পর সাবেক চেয়ারম্যান এবং তার স্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি, তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও হদিস পাওয়া গেলে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যৌথ বাহিনী আগাম সতর্কতামূলক পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিল। স্থানীয়রা পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এই অভিযান আমাদের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বড় সাহায্য করবে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা বোধ বাড়াবে।”
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, প্রশাসন অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এমন অভিযানের ধারাবাহিকতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
