বাউফলে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: আহত ৫০, রণক্ষেত্র চন্দ্রদ্বীপ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও সহিংসতা

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের (মাসুদ) সমর্থনে আজ সকাল ১০টায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেলা একটার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে অতর্কিত হামলার শিকার হয়।

অভিযোগ উঠেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হাওলাদার ও শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলের পেছন থেকে হামলা চালায়। এতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। প্রাথমিক আঘাতেই জামায়াতের অন্তত ৪০ জন কর্মী সমর্থক আহত হন।

সংঘর্ষের বিস্তার ও পরবর্তী অবস্থা

বিকেল পৌনে চারটার দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত। সেই মিছিলে বিএনপির এক সমর্থককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। খবর পেয়ে বিএনপির সমর্থকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আরও ১০ জন আহত হন।

আহতদের পরিসংখ্যান ও চিকিৎসার অবস্থা:

ক্যাটাগরিতথ্য ও সংখ্যা
মোট আহতের সংখ্যাপ্রায় ৫০ জন
হাসপাতালে ভর্তি২৫ জন (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স)
উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল প্রেরণ০৩ জন (মারাত্মক জখম)
আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামআনিচুর রহমান (ইউনিয়ন জামায়াত আমির), মো. আমিনুল (সেক্রেটারি)
গুরুতর আহত ব্যক্তিগণলিয়া জাহান, জামাল মৃধা ও দেলোয়ার হোসেন গাজী

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত হামলা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করতেই এই সহিংসতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাউফল থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহার দাবি করে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে উপজেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম এবং বিএনপির সহিদুল আলম তালুকদারের মধ্যে নির্বাচনী লড়াইকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বাড়ার শঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা।