তিন লাখ পাউন্ড পেরোল বাড়ির দাম

যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাড়ির গড় মূল্য। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে একটি বাড়ির গড় দাম প্রথমবারের মতো ৩ লাখ পাউন্ড অতিক্রম করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষ মর্টগেজ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যালিফ্যাক্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে আগের মাসের তুলনায় বাড়ির দাম বেড়েছে ০.৭ শতাংশ—যা ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ মাসিক প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে বার্ষিক হিসাবে দাম বেড়েছে ১ শতাংশ।

হ্যালিফ্যাক্সের মর্টগেজ বিভাগের প্রধান আমান্ডা ব্রাইডেন বলেন, বছরের শুরুতে বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বড়দিনের আগে কিছুটা মন্থরতা থাকলেও নতুন বছরে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি জানান, গড় মূল্য ৩ লাখ পাউন্ড ছাড়ানো নিঃসন্দেহে একটি প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য বাড়ি কেনা এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে বাড়ির দাম সামগ্রিকভাবে ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, আরেক বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইডের হিসাবে গড় বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে কম—২ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৩ পাউন্ড। দুই প্রতিষ্ঠানের পরিমাপপদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে এই অমিল দেখা যায়, যা যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজার বিশ্লেষণে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়।

যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক চিত্র

সূচকপরিমাণ/হার
হ্যালিফ্যাক্সের হিসাবে গড় দাম৩,০০,০০০+ পাউন্ড
জানুয়ারিতে মাসিক বৃদ্ধি০.৭%
বার্ষিক বৃদ্ধি১%
নেশনওয়াইডের হিসাবে গড় দাম২,৭০,৮৭৩ পাউন্ড
২০২০–২০২৩ সময়ে মোট প্রবৃদ্ধিপ্রায় ১৯%
গত তিন বছরে মোট বৃদ্ধি৫.৭% (প্রায় ১৬,০০০ পাউন্ড)

আবাসন বাজারে এই পুনরুজ্জীবনের পেছনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার নীতির প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ৩.৭৫ শতাংশে স্থির রেখেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে সুদহার আরও কমানো হতে পারে, যা মর্টগেজের খরচ কমিয়ে ক্রেতাদের উৎসাহিত করবে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর আয়ারল্যান্ডে বাড়ির দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি—এক বছরে ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ২০৬ পাউন্ডে। স্কটল্যান্ডে বেড়েছে ৫.৪ শতাংশ। বিপরীতে ওয়েলসে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ। ইংল্যান্ডের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান মজুরি, তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং মর্টগেজ সুদহার হ্রাসের প্রত্যাশা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। তবে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মহামারিকালীন অস্বাভাবিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাজারের গতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কুইল্টারের মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ কারেন নোয়ে মনে করেন, সুদহার কমলেও দাম হঠাৎ লাফিয়ে বাড়বে না; বরং ধীর ও নিয়ন্ত্রিত প্রবৃদ্ধিই দেখা যাবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, তিন লাখ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করা বাজারের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমানা হলেও, ক্রেতাদের সামর্থ্য, সুদহার নীতি এবং আঞ্চলিক বৈষম্য—এই তিন উপাদানই আগামী দিনের আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।