ভেজা আবহাওয়ায় শনিবার দুপুরে রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর নদীর তীরবর্তী বস্তিতে জীবনের প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সূর্যের তাপে শুকানো কাপড়গুলো হাওয়ায় দুলছে, আর এক কোণে এক মায়েরা কনিষ্ঠ কন্যার চুল গুছাচ্ছেন। কন্যা জিজ্ঞেস করছে, “কালকের মিছিলে আমাদের কত টাকা দেওয়া হবে?” মা উত্তর দিচ্ছেন, “সব একসঙ্গে নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়।”
এই বস্তিতে নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক মিছিল কেবল নাগরিক অংশগ্রহণ নয়, বরং আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। চলতি বছরে প্রতিদিন মিছিলে অংশগ্রহণের বিনিময়ে ৫০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। তবে যখন জনসমাগম বেড়ে যায়, তখন অংশগ্রহণকারীর হারে তা কমিয়ে ৪০ টাকা করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে, এই এলাকার পুরুষ ও নারী নিয়মিত মিছিলে অংশ নিচ্ছেন, মূলত দৈনিক আয়ের আশায়।
৮০ বছর বয়সী এক বিধবা বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর তিন বছর ধরে আমার সন্তানরা নিজে নিজে সংসার চালাচ্ছে। দূরে যেতে পারি না, তাই ডাক পেলেই মিছিলে যাই।” অনুরূপভাবে, ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি যিনি অক্ষম হাতের কারণে সীমিত কাজ করতে পারেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীর সঙ্গে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এক দিনে ৫০ টাকা, দুজন গেলে ১০০ টাকা, কিন্তু টাকা একসাথে খুব কমই দেওয়া হয়।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বা কাউন্সিলর প্রার্থী সংক্রান্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করলে ‘মিছিল ভাতা’ সামান্য বাড়ানো হতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত থাকলেও, অনেকেই শুধুই দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা নিশ্চিত করেছেন, “অনেকের জন্য এক মিছিলে অংশ নেওয়া মানে এক বেলা খাবারের নিশ্চয়তা। ভাতা সীমিত, তাই প্রতিদিন ৫০ টাকা দেওয়া হয়। অতীতে টাকা আরও অনিয়মিতভাবে দেওয়া হতো।”
নিম্নলিখিত টেবিলে রামচন্দ্রপুরের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দৈনিক ভাতা সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| অংশগ্রহণকারী ধরন | অংশগ্রহণের দিন | দৈনিক ভাতা | প্রদানের পদ্ধতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| নারী (প্রাথমিক আয় নির্ভর) | ৭ দিন | ৫০ টাকা | প্রতিদিন প্রদান | গৃহস্থালি খরচ সামলানো হয় |
| পুরুষ (বৃদ্ধ/অক্ষম) | ২–৩ দিন | ৫০–১০০ টাকা | ভাগাভাগি করে প্রদান | দৈনিক পরিবারের প্রয়োজন মেটানো হয় |
| দম্পতি (একসাথে) | ২ দিন | ১০০ টাকা | এক দিনে প্রদান | পরিবারের সহায়তা হয় |
রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দাদের জন্য নির্বাচনী মিছিল শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অংশগ্রহণের প্রধান কারণ হলো পরিবারকে খাওয়ানো, মৌলিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা। একটি সংক্ষিপ্ত মিছিলও তাদের দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম সাময়িকভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করে, যেখানে দারিদ্র্য প্রতিটি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
