ঘূর্ণিঝড়ে ফিলিপাইনে ১২ জনের মৃত্যু, ২ লাখেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

ফিলিপাইনে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় ‘বাসিয়াং’ আঘাত হানে এবং এতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপে ঝড় ও ভারি বর্ষণের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সিভিল ডিফেন্স অফিস (OCD)।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর মিন্দানাও এবং পার্শ্ববর্তী নেগ্রোস দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকশ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৬৪ হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর মিন্দানাও অঞ্চলে গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নদীগুলো প্লাবিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু তিনটি ভেসে গেছে। অনেক জায়গায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শহর ও গ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার বিভিন্ন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মিমারোপা ও কারাগা অঞ্চলের ৮২টি সমুদ্রবন্দর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে চার হাজারের বেশি যাত্রী এবং কয়েকশ মালবাহী জাহাজ মাঝপথে আটকা পড়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও ভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

নিচের টেবিলে ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও প্রভাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

অঞ্চলক্ষতিগ্রস্ত মানুষঘরবাড়ি ত্যাগকারী পরিবারগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিপরিস্থিতি নোট
উত্তর মিন্দানাও১,২০,০০০+৩০,০০০+নদী সেতু ধসে গেছেবন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বজায়
নেগ্রোস দ্বীপ৫২,০০০+১৫,০০০+জলাবদ্ধতা বৃদ্ধিকয়েকশ গ্রাম প্লাবিত
মিমারোপা ও কারাগা৬০,০০০+১৯,০০০+৮২ সমুদ্রবন্দর বন্ধযাত্রী ও মালবাহী জাহাজ আটকা

ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঝড়-প্রবণ অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বন্যা প্রবণ এলাকাগুলিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসন জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভূমিধস ও সেতু ধসের বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে।

ফিলিপাইনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত কার্যকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।